E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

 

ময়মনসিংহ নগরীর ফুটপাত ইজারা দিয়েছেন কে বা কারা?

২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:১৭:৩৫
ময়মনসিংহ নগরীর ফুটপাত ইজারা দিয়েছেন কে বা কারা?

নীহার রঞ্জন কুন্ডু, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের নগরীর ফুটপাত দখলের বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সহ একাধিক সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মহল অদৃশ্য কারণে ঠুটো জন্নাথের ভূমিকা পালন করছে। ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ততম সড়ক নতুন বাজার, চড়পাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, পুরাতন পুলিশ ক্লাব রোড, দূর্গাবাড়ি রোড, গাঙ্গিনারপাড় থেকে স্টেশন রোড, তাজমহল মোড় থেকে বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেট পর্যন্ত জনসাধারনের চলাচলের রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বিপুল পরিমান ভাসমান দোকান। সংশ্লিষ্ট মহল আইওয়াশ নামক উচ্ছেদ অভিযান করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এসব ফুটপাত পুনরায় দখল হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গাঙ্গিনার পাড় থেকে স্টেশন রোড, পুরাতন পুলিশ ক্লাব রোড ও তাজমহল থেকে বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেট পর্যনত অর্থ উত্তোলনে সহযোগিতা করছে কতিপয় নামধারী দালাল নেতাকর্মী। মূলত তারা কেউই মূল ধারার রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না থাকলেও যে সরকার থাকে তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দলের ঝান্ডা উড়িয়ে এসব চাঁদাবাজি উৎকোচ বানিজ্য করে যাচ্ছে। কিন্তু এদের কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহ নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা গাঙ্গিনারপাড় থেকে স্টেশন রোডে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষের চলাচল। এই রোডে সবচেয়ে বেশি মানুষের পদচারণা থাকে দিন রাত সবসময়ই। যে গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় এত পথচারী অথচ সেখানে ফুটপাত ধরে হেঁটে চলাচল করার কোনো ব্যবস্থা নেই। দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি পাচ্ছে না গাঙ্গিনারপাড় থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত ফুটপাতগুলো। পুরো ফুটপাতজুড়েই গিজগিজ করছে দোকান। পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে নানা রকমের বাজার সাজিয়ে রেখেছে অবৈধ দখলদার। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো পরিস্থিতি নেই সেখানে। তাই বাধ্য হয়ে পথচারীরা নেমে এসেছেন মূল সড়কে। যে কারণে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সাথে প্রতিনিয়ত খোয়া যাচ্ছে জনসাধারনের মোবাইল-মানিব্যাগ ও দামী গহনা সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। আর সেই সঙ্গে তো থাকছে পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

ময়মনসিংহ নগরীর এলাকাজুড়ে ফুটপাতে দোকানের আধিক্য অসহনীয়। ফুটপাতগুলো হকাররা দখল করে ব্যবসা করলেও এর নেপথ্যে আছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ময়মনসিংহ নগরীর হকাররাও এসব সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। প্রতিদিনই চলছে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে তাদের এ আধিপত্য। যে কারণে বারবার উচ্ছেদ করার পরও দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না ফুটপাতগুলো। ফুটপাত দখল করা হকারদের কোনোভাবেই ঠেকাতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিটি কর্পোরেশন।

জনশ্রুতি রয়েছে গাঙ্গিনারপাড় ট্রাফিক মোড় থেকে শুরু করে স্টেশন রোড পর্যন্ত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে দৈনিক হারে চাঁদা উত্তোলন করছে নব-নির্বাচিত সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় নামধারী কৃষকদল নেতা পুরোহিতপাড়া'র হৃদয়, মালগুদামের ইন্তাজ গাজী ও তার দল এবং এই তালিকায় রয়েছে কৃষ্টপুর এলাকার তথাকথিত যুবদল নেতা সোহেল এর নাম। তারা অহংকার করে বলে আমরা এমপি'র লোক আমাদের বিরুদ্ধে নিউজ লিখলে কিছুই হবে না।উৎকোচের মাধ্যমে পুরাতন পুলিশ ক্লাব রোডে ফুটপাত দখল করার জন্য অলিখিত নির্দেশ দিয়ে এসব দোকান চালাচ্ছে এক শ্রেনীর আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও কিছু পাতি নেতা। এখন প্রশ্ন হলো রক্ষকই যখন বক্ষক তখন তো সমাজে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। সেই সাথে যারা এখন নিজেদের এমপি'র লোক বলে জাহির করছে ৫ই আগস্টেও পূর্বেও তারা সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু'র লোক বলে দাবী করেছে এবং তৎকালীন সময়েও তাদের ফুটপাত শ্রমিক লীগের কমিটিতে নাম দেখা গিয়েছে। তাহলে কি ধরে নিবো যে, তারা সময়ে সময়ে ভোল্ট পাল্টিয়ে জনসাধারণের রক্ত চুষে নিচ্ছে?

গাঙ্গিনারপাড় এলাকা দিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী পেছনেই অটোরিকশাচালক হর্ন বাজিয়ে বলছিলেন। আপা একটু সাইড দিয়ে হেঁটে যান'। চালকের কথা শুনে শিক্ষার্থী বলছেন 'কোথায় যাব? ফুটপাতে দোকান, রাস্তয় গাড়ি, বিপাকে আমাদের মতো পথচারী'।

পথচারীরা আরো বলেন, পুরো গাঙ্গিনাপাড় ট্রাফিক মোড় থেকে শুরু করে স্টেশন রোড পর্যন্ত ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। সবগুলো ফুটপাতে অতিরিক্ত দোকান, তার মধ্যে মানুষের হেঁটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এত ভিড় থাকে যেখানে পুরুষ মানুষই হাঁটতে পারে না আর আমরা মেয়ে মানুষ কীভাবে হাঁটব?

পথচারীদের চলাচলের জন্য থাকা ফুটপাতে কেন আপনাদের দোকান এমন প্রশ্নের জবাবে ফুটপাতের দোকানি সাগর বলেন, টাকা দিয়ে দোকান বসাইছি, আবার প্রতিদিন চাঁদাও দিতে হয়। এছাড়াও প্রতিদিন লাইনম্যানকে টাকা দিয়ে দোকান চালাই।

ফুটপাতে কাপড়ের দোকান দিয়েছেন সাদেকুল ইসলাম। সাত বছর ধরে এখানে দোকান চালান তিনি। আলাপকালে সাদেকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে দোকান করি। মৌসুম বুঝে বিভিন্ন ব্যবসা করি। ব্যবসার খাতিরে দোকান চালাতে গিয়ে অনেকবার উচ্ছেদ হয়েছি কিন্তু আবার ফিরে এসেছি। নগদ টাকা লাইনম্যানকে দিয়ে ব্যবসা করে টিকে আছি।

তিনি বলেন, ফুটপাত আসলে মানুষের হাঁটার জন্য কিন্তু আমরা এখানে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে খাচ্ছি। আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। কারণ এখানে অনেক শক্তিশালী সিন্ডিকেট আছে যারা প্রতিদিন চাঁদা নেয়। যে কারণে বারবার উচ্ছেদ অভিযানের পরও আমরা ফিরে এসে আবার দোকান নিয়ে বসতে পারি। যারা দখল করে রেখেছে তাদের কাছে আপনারা কিছুই না।

এ বিষয়ে স্থানীয় নাগরিক সমাজ এবিষয়ে বলেন, আমরা ঠিকমতো এসব রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিটি কর্পোরেশন নাম মাত্র চোর পুলিশের উচ্ছেদ অভিযান করলেও তা ক্ষণস্থায়ী পুনরায় তারা গটি-বাটি বসিয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে যাচ্ছে সেই সাথে জনগণেরও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ তো বর্তমান সাংসদের নাম বিক্রি করে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। পথচারীদের একটাই কথা রক্ষা করুন প্লিজ..-- আবার এই অবৈধ্য ফুটপাত নিয়ে কোনো সচেতন নাগরিক কিছু বললে বা পত্রিকায় নিউজ লিখলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে এই সকল তথাকথিত নামধারী সন্ত্রাসী চাদাবাজ নেতাদের কেউ কেউ-- এখন নাগরিক সমাজ চায় নবাগত পুলিশ সুপার মহোদয় এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিবেন।

(এনআরকে/এসপি/মার্চ ১৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৫ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test