E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

২০২৬ মার্চ ২৩ ১৭:০০:৪৮
নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : ঈদের আনন্দ সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নড়াইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই। রবিবার (২২ মার্চ) বিকালে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে এ ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। এতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিছালী ও কালিনগর গ্রামের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক। বিছালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি কাজী হাসরাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য কামরুল বিশ্বাস, বিছালী ক্যাম্পের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

ষাঁড়ের লড়াই কেন্দ্র করে গ্রাম জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী ষাঁড়ের লড়াই দেখতে গ্রামটিতে ভিড় করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ষাড়ের লড়াই ঘিরে সকাল থেক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুর গড়াতেই কালিনগর মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শুধু মাঠেই নয়, রাস্তায় পাশে থাকা গাছে ওঠে ষাঁড়ের লড়াই দেখেন অনেক দর্শনার্থী।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ষাঁড়ের লড়াই ঘিরে বসে নানা পণ্যের দোকান। চানাচুর,পাপর, মিষ্টি, স্থানীয় হরেক রকম খাবার থেকে শুরু করে খেলনা,মাটির তৈজসপত্র, হস্তশিল্পসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও লড়াই দেখতে ভিড় করেছেন গ্রামটিতে। প্রতিযোগিতায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৬টি ষাঁড় অংশ নেয়।

কলোড়া গ্রাম থেকে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে মাঠে এসেছেন ষাটোর্ধ্ব মকবুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘ষাঁড়ের লড়াই দেখতে ভালোই লাগে। ঈদের ছুটিতে ছেলে ও ছেলেবৌ বাড়িতে এসেছেন। নাতিকে নিয়ে লড়াই দেখার সুযোগ হয়েছে। নাতিকে এই লড়াই দেখাতে পেরে আনন্দটা বেশি অনুভব করছি।’

দর্শনার্থীদের মতে, ষাঁড়ের লড়াই গ্রাম বাংলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন করে। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এ ধরনের আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলার সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।

চাকই মধিরগাতি থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী মাহজারুল হোসেন বলেন, ‘যশোর, নওয়াপাড়া, খুলনা থেকে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে অনেক লোক এসেছেন।’

আয়োজক কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রাম বাংলা ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দুই গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ছুটিতে শহর থেকে অনেকে গ্রামের বাড়ি এসেছেন তাদরে পরিবার নিয়ে। পরিবার-স্বজন নিয়ে একটু বিনোদনের জন্য দুই গ্রাম মিলিত হয়ে আমাদের এই আয়োজন। আয়োজনের এই ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ঘোষণা করেন আয়োজকরা।

(আরএম/এসপি/মার্চ ২৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৩ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test