E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গোপালগঞ্জে জ্বালানি সংকট: একাধিক পাম্প ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল

২০২৬ মার্চ ২৪ ১৮:৪৭:৩০
গোপালগঞ্জে জ্বালানি সংকট: একাধিক পাম্প ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ শহরের একাধিক পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন সহ জ্বালানী সংকট তীব্র  আকার ধারণ করেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক ও কৃষকরা।

শহরের অন্তত তিনটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও সব ধরনের তেল নেই। যা আছে, তা দিয়েই বিপুল গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো।

শহরের পাথালিয়া এলাকার শরিফ নুরজাহান ফিলিং স্টেশনে বর্তমানে কোন জ্বালানী সরবরাহ নেই। দোলা ফিলিং স্টেশনে শুধু ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। আর নিগি ফিলিং স্টেশনে মিলছে কেবল পেট্রোল ও ডিজেল।

নিগি পেট্রোল পাম্পের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “আমি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ তেল পাচ্ছি, তাও শুধু পেট্রোল ও ডিজেল। তেল পরিবহনের খরচও ঠিকমতো উঠছে না। সেবা দেওয়ার জন্যই পাম্প চালু রেখেছি। যে জ্বালানী ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে, তা আমার অর্ধেক দিনের জন্যও যথেষ্ট নয়। এ জ্বালানী দিয়ে এখন তিন–চার দিন চালাতে হচ্ছে।”

শরীফ নুরজাহান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বাচ্চু শেখ বলেন, “১৭ মার্চ আমরা ৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল ও ২ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছিলাম। তা দিয়ে রোববার (২২ মার্চ) পর্যন্ত অল্প অল্প করে কাস্টমারদের দিতে পেরেছি। এরপর ডিপো থেকে আর কোনো ধরণের জ্বালানী সরবরাহ পাইনি।”

দোলা ফিলিং স্টেশনের তেলবাহী গাড়ির চালক মোহাম্মদ রাহাত বিশ্বাস বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে ডিপোতে গেলেও তেল পাচ্ছি না। ডিপোর অফিসগুলো তালাবদ্ধ থাকে, ফোনও ধরছে না। ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না। এ কারণে সংকট দেখা দিয়েছে।”

এদিকে, তেল নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, যানবাহন চালক ও কৃষক । বাইকচালক কামরান মোল্লা বলেন, “২–৩ ঘণ্টা আগে পাম্পে আসলে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে এসে দেখি বিশাল লাইন। তাও মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যদি এত কম তেল পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের জন্য তা খুবই কষ্টকর।”

শহরের চেচানিয়াকান্দি এলাকার কৃষক মহেন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বোরোধান আমাদের প্রধান ফসল। এখন এ ফসলে সেচ দিতে হচ্ছে। সেচ দিতে প্রতিদিন আমাদের ব্লকে অন্তত ৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ি ডিজেল পাচ্ছি না। বিভিন্ন পাম্পে ধরণা দিয়েও ডিজেল মিলাতে পারছি না। ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশংকা করছি। তাই দ্রুত জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।

বাস ড্রইভার রহমান মোল্লা বলেন, খুলনা থেকে গোপালগঞ্জে হয়ে বাস নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি। আমরা ১শ’ লিটার ডিজেল দরকার। কিন্তু খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের ৩ পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে মাত্র ৫৫ লিটার ডিজেল পেয়েছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে যাত্রী পরিসেবা ব্যাহত হবে। ঈদ ফেরৎ যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।

ট্রাক ড্রাইভার খান আনিসুর রহমান বলেন, আমি দূরপাল্লার ট্রাক চালাই। গোপালগঞ্জ থেকে বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রামে পণ্য পরিবহন করি। কিন্তু তেল সংকটে পথেই ২/৩ দিন কেটে যায়। এতে পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যের মালিকদের ট্রাকের ড্যামোরেজ দিতে হচ্ছে। এতে পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

(টিবি/এসপি/মার্চ ২৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৪ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test