E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘নির্দোষ মানুষটাকে যারা মারিছে আমি তাদের ফাঁসি চাই’

২০২৬ মার্চ ৩০ ১৪:২৯:৪১
‘নির্দোষ মানুষটাকে যারা মারিছে আমি তাদের ফাঁসি চাই’

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : ‘আমার সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাটা এতিম হয়ে গেছে। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই, সুষ্ঠু বিচার চাই আমি। নির্দোষ মানুষটাকে কেন হত্যা করল? যারা মারিছে আমি তাদের ফাঁসি চাই৷ কেন আমার ছোট বাচ্চাডারে এতিম করল?’

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লি গ্রামে নিজবাড়িতে বসে কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলেন, নিহত নাহিদ সরদারের স্ত্রী আফিয়া বেগম।

নিহত নাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তেল পাম্পের ম্যানেজার নাহিদকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা শোকে শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েছেন। থেমে থেমে নিহতের স্ত্রী আফিয়া বেগম ও মা শিউলি বেগমসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয় কাঁদছেন। সাড়ে তিন বছর বয়সী নাহিদের শিশু কন্যাটি মা-দাদীসহ আত্মীয়-স্বজনদের পাশে ঘোরাফেরা করলেও সে জানে না, তাঁর আব্বু মারা গেছে।

এসময় কান্নারত কণ্ঠে নাহিদের মা শিউলি বেগম বলেন, ‘আমার বাবারে বিনা দুষি মারিছে, আমি এহন সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার একটা বাচ্চা, আর কেউ নেই আমার। আমার বাজান কারো সাথে কোনো অপরাধ করে না৷ আমি আজকে কী করে ঘরের তলে মাথা দিবানিরে বাজান।’

এর আগে, রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে নিহত নাহিদের চাচা ও তানভীর ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. রবিউল ইসলাম ট্রাক চালক সুজাত মোল্যাকে প্রধান অভিযুক্ত করে রবিবার দুপুরে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত নাহিদ সরদার পাশের গ্রাম তুলারামপুরে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, গত শনিবার মধ্যরাতে পাম্পে তেল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার পর নাহিদ সরদারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করে ট্রাক চালক সুজাত মোল্যা। অভিযুক্ত সুজাতের বাড়িও নিহত নাহিদের গ্রামেই।

স্থানীয়রা জানায়, নাহিদদের পুরো পরিবার অত্যন্ত নম্র-ভদ্র। এলাকায় কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব নেই তাদের। অভিযুক্ত ট্রাক চালক সুজাত মোল্যার বাড়িও একই গ্রামে, নাহিদদের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে। একই এলাকায় বাড়ি হলেও সুজাতের সঙ্গে নাহিদের পূর্বের কোনো বিরোধ ছিল না। তবে সুজাতকে খারাপ প্রকৃতির লোক হিসেবেই চেনে স্থানীয়রা। নাহিদের প্রশংসা করে কেউ কেউ বলেন, ‘এমন ছেলেকে হত্যা মেনে নেওয়া যায় না৷ এর কঠিন বিচার হওয়া দরকার।’

এদিকে সোমবার সকাল থেকে জেলার তেলের পাম্পগুলো খুললেও সহকর্মী নাহিদ হত্যার ঘটনায় চাপা ক্ষোভ আর কষ্ট নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে পাম্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

(আরএম/এএস/মার্চ ৩০, ২০২৬)




পাঠকের মতামত:

৩০ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test