E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নগরকান্দায় বৃদ্ধা হত্যার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক ভাগ্নে গ্রেপ্তার

২০২৬ মার্চ ৩১ ১৯:১৯:৫০
নগরকান্দায় বৃদ্ধা হত্যার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক ভাগ্নে গ্রেপ্তার

দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরের নগরকান্দায় জামেলা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ সেফটি ট্যাংকে গুম করার চাঞ্চল্যকর 'ক্লুলেস' মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত নিহতের আপন ভাগ্নে মো. আলমগীর হোসেনকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে খালার জমানো টাকার লোভে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে ঘাতক আলমগীর।

গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাতে নগরকান্দা থানার রাধানগর (পূর্বপাড়া) গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাই শেখ মোতালেব বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-২৭) দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহতের স্বামী নেই এবং দুই মেয়ে বিবাহিত হওয়ায় তিনি বাড়িতে একা থাকতেন। ঘাতক চক্র তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়।

মামলা রুজুর পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) জনাব মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এবং অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব রাসূল সামদানী আজাদের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল ইসলামসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীর টেক এলাকা থেকে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আসামি আলমগীর দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে ঋণগ্রস্ত ও হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি জানতেন তার খালা জামেলা বেগমের জমি বিক্রির টাকা এনজিওতে এফডিআর করা আছে। সেই টাকার জন্য তিনি বারবার খালার কাছে ধরনা দিলেও খালা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ রাতে আলমগীর খালার বাড়িতে অবস্থান করেন। রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আলমগীর তার গামছা দিয়ে খালার গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর লাশটি পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দিয়ে ঘরে তালা মেরে পালিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

নগরকান্দা থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে এই ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

(ডিসি/এসপি/মার্চ ৩১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩১ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test