E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ হারুনের

‘মাদক সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারলে আত্মহত্যা করবো’

২০২৬ এপ্রিল ০১ ১৮:৪১:০৭
‘মাদক সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারলে আত্মহত্যা করবো’

চাটমোহর প্রতিনিধি : বিএনপি নেতা কাজী খোকনের চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মারধরের শিকার হারুন অর রশীদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি কেউ মাদকের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।’

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের মহরমখালি গ্রামে নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। হারুন ওই গ্রামের মৃত আরশেদ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন বেসরকারি চাকুরীজিবী বলে দাবি করেন।

এর আগে গত শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা কাজী খোকন নিজের বিরুদ্ধে হারুনের তোলা চাঁদাদাবির অভিযোগ সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‌‌‌"চাঁদাবাজির সংক্রান্ত বিষয়ে যদি আমার কোনো জায়গায় সম্পৃক্ততা থাকে, যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি রাজনীতি তো দূরে থাক, আমি আত্মহত্যা করবো।"

চাটমোহর রেলবাজারে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। কাজী খোকন চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক। তিনি উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামের খবির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে কাজী খোকন অভিযোগ করেন, 'হারুন একজন মাদক কারবারী। এছাড়া সে বিদেশে মানুষ পাঠানোর নামে অনেক মানুষের টাকা আত্মসাত করেছে। ডলার নামে এক যুবককে দিয়ে সে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের কাজ করাতো। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে হারুন। ডলার তার টাকা ফেরত চেয়ে না পেয়ে আমাদের শরনাপন্ন হয়। এলাকার মানুষ হিসেবে সমাধানের জন্য গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় হারুনকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলি। কিন্তু হারুন টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাকে কিছু মারধর করা হয়। কিন্তু সেই ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে হারুন সাংবাদিকদের কাছে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে।'

সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা কাজী খোকনের ওইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‌'ডলার নামে যে ছেলের কথা আমার সহযোগী বলে উল্লেখ করেছেন খোকন, তাকে আমি ঠিকমতো চিনি না। তার কাছ থেকে কোনোদিন কোনো টাকাও নেই নাই। এসব মিথ্যা কথা। আবার আমাকে ইয়াবা ডিলার বলে যে অভিযোগ তুলেছে তারও কোনো ভিত্তি নাই। আপনারা এলাকার মানুষের কাছে যাচাই বাছাই করেন দেখেন কোনো প্রমাণ পান কি না। যদি মাদকের সাথে আমার কোনোরুপ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান আমি নিজেই আত্মহত্যা করবো।'

হারুন বলেন, 'কাজী খোকন সরাসরি আমার কাছে টাকা না চাইলেও তার সহযোগী রুবেল ও ডলারকে দিয়ে আমার কাছে টাকা চাইয়েছে। ৫০ হাজার টাকা দিতে বারবার চাপ সৃষ্টি করেছে। আমি তাদের বারবার বলছি, কিসের টাকা, আমিতো কোনো টাকা নেই নাই। তারা বারবার টাকা দাবি করে আসছে। না দেওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রেলস্টেশন এলাকায় চা পান করার সময় আমাদের দুই ভাইকে টেনে হিঁচড়ে নিজের অফিসে নিয়ে কাজী খোকন মারধর করেছে। এখন নিজে বাঁচার জন্য আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন তিনি।'

সংবাদ সম্মেলনে হারুনের ছোট ভাই প্রবাসী আইয়ুব আলী বলেন, 'তারা আমার ভাইয়ের কাছে কোনো টাকাই পাবে না। এগুলো সব ভাওতাবাজী। টাকাগুলো নেওয়ার জন্য তারা এই নাটক সাজিয়েছে। মুল ঘটনা হলো আমি হারুনের ছোট ভাই, বিদেশ থেকে আসছি, আমার কাছে টাকা আছে, গাড়ি কিনেছি। এটা দেখে মুলত তারা আমার বড় ভাইকে হেনস্তা করছে। তাদের কাছে লিগ্যাল কোনো রাস্তা নেই যে তারা আমার ভাইয়ের কাছে কোনো টাকা পাবে। এটাই মূলত চাঁদা। সরাসরি বলে নাই যে চাঁদা। কিন্তু তারা বলছে তোর কাছে টাকা পাবো, দিতে হবে। তারা কয়েকবার বসার জন্য ডাকছে আমাদের। কিন্তু আমরা তাদের ডাকে সাড়া দেই নাই। এটাই তাদের ক্ষোভ কেন তাদের ডাকে গেলাম না, তাদের সাথে বসলাম না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার চাই। যদি আমরা দোষী হই তাহলে যেকোনো সাজা মাথা পেতে নেবো।'

(এসএইচ/এসপি/এপ্রিল ০১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০১ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test