E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নাটোরে নাবালিকা শ্যালিকা ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৮:২৪:৫৯
নাটোরে নাবালিকা শ্যালিকা ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে আপন নাবালিকা শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই শ্যালিকা ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গতকাল শনিবার রাতের দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের নিজ বাবার বাড়িতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন ও একই অপরাধের সাথে জড়িত তার ছোটভাই মাহবুব হোসেনকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্ত্রী ফারজানা আক্তার অপি। এ সময় ছাত্রদল নেতার শ্বশুর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ও সদস্য থেকে ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালের দিকে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আসিফ ইকবাল নতুনের স্বাক্ষরিত পত্রে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনের স্ত্রী অপি বলেন, বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার গুরুমশৈল মহল্লার ফারুক হোসাইনের ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও বর্তমানে পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন এর সাথে ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আমার। আমাদের ৫ বছরের একটি ছেলে আছে। বছর খানেক ধরে দেখে আসছি ইকবাল কোন কারণ ছাড়াই মাঝেমধ্যে আমার বাবার বাড়ি আসা যাওয়া করছে। পরে জানতে পারি আমার ১৬ বছর বয়সী নাবালিকা ছোট বোনকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ঘটনা জানার পর ইকবালকে বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে ইকবাল রাজনৈতিক কাজে বাড়ি ফিরতে দেরী হবে জানিয়ে রাত ১১টার দিকে আমার বাবার বাড়িতে আসে এবং বোনকে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

গত সপ্তাহে বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে জানতে পারি সে তার দুলাভাই দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এরপর গত ৩ এপ্রিল থেকে আকস্মিক নিখোঁজ হয় ছোটবোন। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করার পর গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বাবার জিম্মায় দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইকবাল ও তার ছোটভাই মাহবুব এসে জোরপূর্বক বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাবা-মার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে বোনকে উদ্ধার করে। এ সময় ইকবাল ও তার ভাই মাহবুবকে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়। আমাদের পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে। এ রকম খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী স্বামী ও স্বামীর ছোটভাইয়ের বিচার ও শাস্তি দাবি করেন ইকবালের স্ত্রী ফারজানা আক্তার অপি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতার শ্বশুর ওসমান আলী বলেন, আমি আমার দুই মেয়ের ভবিষ্যত নষ্ট করা দুশ্চরিত্র, লম্পট, ধর্ষক ইকবাল ও তার ভাই মাহবুবের উপযুক্ত সাজা চাই।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম জানান, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বাদী ওসমান আলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত ও অন্যান্য আইনী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

(এডিকে/এসপি/এপ্রিল ১২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১২ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test