E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘কুরআনের পাঠশালা’ খ্যাত 

২১ বছর পর নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতি পেলেন প্রতিবন্ধী জমেলা

২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৯:১৩:৫৯
২১ বছর পর নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতি পেলেন প্রতিবন্ধী জমেলা

চাটমোহর প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডেফলচড়া গ্রামের জমেলা খাতুনের (৪২)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দীর্ঘ ২১ বছরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই গ্রামের শত শত নারী ও শিশুকে পবিত্র কুরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি। তবে, জরাজীর্ণ ঘর আর রোদ বৃষ্টির বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে চলা এই ‘কুরআনের পাঠশালা’ পেল নতুন রুপ। 

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হবার পর স্বীকৃতি পেলেন সেই ‘কুরআনের পাঠশালা’ খ্যাত প্রতিবন্ধী জমেলা খাতুন। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই নারীর জীবনে এসেছে অনেক পরিবর্তন। জমেলা খাতুনের ধর্মের জন্য নিঃস্বার্থ সেবার সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। জমেলার ‘কুরআনের পাঠশালা’ খবর জানতে পেরে এগিয়ে আসে সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সংগঠনটির অর্থায়নে জমেলার জরাজীর্ণ ঘরের সামনে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এক মজবুত নতুন ঘর। শুধু থাকার ঘরই নয়, কুরআন পড়ানোর জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছে একটি আলাদা সুপরিসর কক্ষ। সেখানে বসানো হয়েছে কার্পেট। আগে যেখানে রোদ-বৃষ্টিতে পাঠদান বন্ধ থাকত, এখন সেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে কুরআন শিখতে পারবে। এছাড়া তার বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট ও অযুখানা, যা তার দৈনন্দিন জীবনে এনেছে স্বস্তি। এছাড়াও উপহার হিসেবে জমেলা খাতুন পেয়েছেন নতুন খাট, জামা-কাপড় ও হুইল চেয়ার। হামাগুঁড়ি দিয়ে আর চলতে হবেনা তাকে। দীর্ঘদিনের অযতœ আর অবহেলা কাটিয়ে জমেলা খাতুন এখন এক সুন্দর পরিবেশে কোরআন শিক্ষা দেবার পাশাপাশি ধর্মের বাণী প্রচার করতে পারবেন।

শনিবার সকালে জমেলার পাঠশালার শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটির পাবলিক রিলেশন অফিসার তরিকুল ইসলাম আদনান। নতুন ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত জমেলা খাতুন ও তার শিক্ষার্থীরা। বেজায় খুশি পুরো উপজেলার মানুষ। স্থানীয়রা মনে করেন, জমেলা খাতুনের এই গল্প সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মহৎ কাজের অন্তরায় নয়, জমেলা তার এক জীবন্ত উদাহারণ।

আবেগতাড়িত কন্ঠে জমেলা খাতুন বলেন, ‘আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকতে পেরেই আমি খুশি। আমার কষ্টের কথা বুঝতে পেরে সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি আমার জন্য যা করল আমি আমৃত্যু মনে রাখব। এখন স্বস্তিতে ঘুমাতে পারব, পড়াতে পারব। এটাই আমার বড় পাওয়া।’

সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাজ মম বলেন, জমেলা খাতুনের মতো মানুষ সমাজের প্রকৃত সম্পদ। তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা ভুলে ২১ বছর ধরে যে সেবা দিয়ে আসছেন, তা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যারা সমাজের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই, সমাজের প্রতিটি জমেলা খাতুন যেন সম্মান, নিরাপত্তা ও সহায়তা পান।

(এসএইচ/এসপি/এপ্রিল ১২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১২ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test