E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দীর্ঘ ৪ বছর পর টাঙ্গাইলে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৯:৩৮:২৭
দীর্ঘ ৪ বছর পর টাঙ্গাইলে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইল মির্জাপুরে বিগত ৪ বছর আগে চাঞ্চল্যকর অটোচালক গোলাম রাব্বি (৪২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই), টাঙ্গাইল। পিবিআই এর পক্ষ হতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি হতে জানা যায়, বিগত চার বছর আগে ২১ ডিসেম্বর, ২০২১ সালে সন্ধ্যা অনুমান ০৮.৪০ ঘটিকায় মিজার্পুর পাকুল্ল্যা বাসস্ট্যান্ড হতে ০৩ জন অজ্ঞাত নামা যাত্রীবেশে দুষ্কৃতিকারী গোলাম রাব্বির অটোবাইকে উঠে। অতঃপর ভাতগ্রাম পশ্চিমপাড়া, অটোবাইকটি পৌঁছলে গোলাম রাব্বিকে নৃশংস ভাবে জবাই করে হত্যা করে অটোবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। খোঁজাখোজিঁর এক পর্যায়ে, ভাতগ্রাম, পশ্চিমপাড়া সাকিনস্থ জনৈক ইদ্রিস আলীর বাড়ির পাশে ডোবায় কাঁদার উপর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত করে মিজার্পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাপ্ত অভিযোগে প্রেক্ষিতে ২২ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ধারা ৩৯৪/৩০২ পেনাল কোড মিজার্পুর থানার মামলা নং ১৯ রুজু হয়। থানা পুলিশ অত্র মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করতে ব্যর্থ হলে পুলিশ হেডকোয়াটাস এর নির্দেশে গত ০৬ জুন ২০২২ তারিখে মামলার তদন্তভার পিবিআই টাঙ্গাইল এর উপর ন্যস্ত হয়।

পিবিআই জানায়, মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং ক্লুলেস হওয়ায় অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাফিজুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর মোঃ শাহিন আক্তার, ইন্সপেক্টর মোঃ আসলাম হোসেন, সঙ্গীয় এসআই রেজাউল করিম, এএসআই হুমায়ুন কবির ও সিপাহি মোস্তফাসহ একটি চৌকস টিম অত্র মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ০৪ জন আসামী গ্রেপ্তার কর পিবিআই, টাঙ্গাইল। চারজন আসামির মধ্যে ইব্রাহিম হোসেন টুটুল(৩০) এবং রুবেল হোসেন (৩৫) বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক গোলাম রাব্বিকে গলা কোটে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হতে জানা যায়, আসামী ইছা, জুবায়ের হোসেন পারভেজ এবং সজীব বিকাল বেলা অটো দিয়ে অত্র এলাকায় ঘোরাফেরা করে, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে অটো গাড়ির চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলে, এক পর্যায়ে অটো চালক চিৎকার চেচামেচি করতে চাইলে আসামী ইছা, জুবায়ের হোসেন পারভেজ ও সজীবগন পরস্পর জোগসাজসে গলা কেটে হত্যা করে।
ইব্রাহিম হোসেন টুটুল এর জবানবন্দিতে উল্লিখিত আসামী জুবায়ের হোসেন পারভেজকে গ্রেপ্তারের জন্য কাজে নেমে পড়ে টাঙ্গাইল পিবিআই। গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলা বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের জনৈক কালাম দালালের বাড়ী থেকে জুবায়ের হোসেন পারভেজকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই, টাঙ্গাইল অফিসে হাজির করা হয়। আসামী জুবায়ের হোসেন পারভেজ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই টাঙ্গাইলে তদন্তাধীন সর্বমোট ০৬টি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটিত হবে মর্মে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ আশা প্রকাশ করছেন। এমতাবস্থায় আলামত উদ্ধার সহ পলাতক অন্যান্য আসামী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আরো বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাকে ০৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন সহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ ধরনের নৃশংস ক্লুলেস হত্যাকান্ডের ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লিখিত আসামীরা গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সন্তোষ বিরাজ করছে এবং পিবিআই, টাঙ্গাইল জেলার কর্মতৎপরতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

(এসএম/এসপি/এপ্রিল ১৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৫ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test