E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পুরাতন সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরি, ৪০ দিনেও আলামত উদ্ধার হয়নি

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৯:৪৫:৩৭
পুরাতন সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরি, ৪০ দিনেও আলামত উদ্ধার হয়নি

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : পুরাতন সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মন্দিরে গত ১১ মার্চ ভোরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১০জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ৪০ দিনেও কোন সোনার গহনা ও টাকা উদ্ধার করতে না পারায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এদিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের নূর ইসলাম গাজীর ছেলে বাবলু গাজীর সোমবার জামিন শুনানী শেষে জেলা ও দায়রা জজ মোঃ নজরুল ইসলাম আগামি ১১ মে আবারো শুনানীর দিন ধার্য করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিমকে কেস ডায়েরীসহ আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদি জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিনের দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, গত ১১ মার্চ রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। চোর চক্রের সদস্যরা কালীমায়ের মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ দেবের মন্দির, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির এবং রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে ১৮ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গহনা ও নগদ সাত হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। রাতেই কারো নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৩ মার্চ রাতে পুলিশ পুরাতন সাতক্ষীরার ছয়আনি মোড়ের তানভির রহমান, পুরাতন সাতক্ষীরার মন্দির সংলগ্ন রাকিবুল ইসলাম রকিব একই এলাকার মনিরুল ইসলাম, পলাশপোলের আল ইমরান হোসেন শাকিব, পারমাছখোলার রবিউল ইসলাম ও মাহমুদপুরের বাবলু গাজীকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে চানজনকে এক দিনের রিমা-ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরবর্তীতে ২৮ মার্চ রাতে খানপুরের ছিদ্দিকুর রহমান, সাতানী সাহাপাড়ার ইয়ারুল ইসলাম, একই এলাকার অংকন সাহা ও দেবহাটার পুষ্পকাটি এলাকার ভাটা শ্রমিক মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে মাসুদ রানা ও অংকন সাহা গত ২৯ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তবে মাসুদ রানা নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আতাউল ইসলাম আতা ওরফে রানা, অংকন সাহা এবং মামুন ওরফে বোতল এ চুরির ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করে। একইভাবে অংকন সাহা নিজেকে চুরির সময় মন্দিরের ফটকে দায়িত্ব পালন করা স্বীকার করে মন্দিরের অন্য ফটকে মাসুদ রানা পাহারা দেয়ার কথা ছাড়াও ভিতরে আতা ও মামুন ওরফে বোতল মন্দিরের তালা ভেঙে চুরি করে রাতেই ইয়ারুলের কাছে চুরি করা সোনার গহনা রেখে দেয় বলে জানায়। তবে সে চুরির কোন গহনা ভাগ পায়নি বলে জানায়।

মামলার বাদি নিত্যানন্দ আমিন বলেন, চুরি যাওয়া সোনার গহনা উদ্ধার হবে বলে তিনি মনে করেন না। কারণ শারদীয়া দুর্গাপুজার আষ্টমী ও নবমীতে শহরের পিসি জুয়েলার্সের বাড়িতে, সাংবাদিক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর বাড়িতে, পুরাতন সাতক্ষীরার ব্যাংকার গোবিন্দ ঘোষের বাড়িসহ চারটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি হলে পুলিশ কোন আলামত উদ্ধার করতে পারেনি। এ ছাড়া পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়িতে চুরির চারদিন আগে কাটিয়া মায়ের বাড়িতে তালা ভাঙা হলে কোন চোরকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। যে কারণে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরাও শহর ও শহরতলীতে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, প্রথমে গ্রেপ্তার করা ছয় জনের মধ্যে চারজনকে একদিন করে রিমা-ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি আলামত উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য সাহায্য নিচ্ছেন র‌্যাব সদস্যদের। মূল আসামী আতা ও বোতল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করে বারবার সিম পাল্টানোর ফলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আসামীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্য সরবরাহ করার আহবান জানিয়েছেন।

(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২০ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test