E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের বীর সেনানী সামসুদ্দোহার চিরবিদায়

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৯:৫১:১৯
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের বীর সেনানী সামসুদ্দোহার চিরবিদায়

ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে রাজপথ কাঁপানো সেই অকুতোভয় বীর সেনানী, নীলফামারীর মাটি ও মানুষের নেতা সামসুদ্দোহা আজ  পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। তৎকালীন স্বৈরাচারী আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা ও ১১-দফা বাস্তবায়নের লড়াইয়ে তিনি যে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাজপথের সেই সাহসী কণ্ঠস্বর আর শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াকু এই যোদ্ধার মহাপ্রয়াণে ঘটেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুদ্দোহা (৮৪)-এর মহাপ্রয়াণে আজ গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘকাল ধরে বার্ধক্যজনিত ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগে দীর্ঘ লড়াই শেষে আজ তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের এই বীর সেনানী ছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের কাঞ্চনপাড়া গ্রামের এক গর্বিত সন্তান। তার পুরো জীবন ছিল লড়াই, সংগ্রাম ও ত্যাগের এক মহিমান্বিত অধ্যায়। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মুখভাগের যোদ্ধা হিসেবে তিনি যে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন নীতি ও আদর্শের এক মূর্ত প্রতীক। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (CPB) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকার জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কেবল দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি ছিলেন সমাদৃত; রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি বিদেশের মাটিতেও দেশের সম্মান উজ্জ্বল করেছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, এই মহান নেতার শেষ বিদায়ের আয়োজন সম্পন্ন হবে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জোহর নামাজের পর তার প্রিয় জন্মভূমি কাঞ্চনপাড়ায়। সেখানে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক সন্তান এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার প্রয়াণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সততা ও মানবিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

(ওকে/এসপি/এপ্রিল ২০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২০ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test