E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বাসস্থান ফিরে পেলেন উচ্ছেদ হওয়া দুই ভূমিহীন পরিবার 

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৯:৫৪:৫৫
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বাসস্থান ফিরে পেলেন উচ্ছেদ হওয়া দুই ভূমিহীন পরিবার 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার ফয়জুল্লাহপুরের দুটি ভূমিহীন পরিবারের উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভূমিহীন আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার মন্ডলের আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার এ সিদ্ধান্ত নেন।  তারই আদেশে রবিবার বিকেল ৬টায় বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করেছন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রবিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে ফয়জুল্লাহপুর মৌজার ঋষিপাড়ায় খাস জমি মাপ জরিপ করে সাংবাদিক মিনিসহ কয়েকজন কি পরিমান খাস জমি দখলে রেখেছেন তা চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফয়জুল্লাহপুর ঋষিপাড়ার ভূমিহীন আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার মন্ডল জেলা প্রশাসকের কাছে লেখা আবেদনপত্র ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশনা থেকে জানা গেছে, ছয় বছর আগে একুশে টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি পরিচয়ে দক্ষিণ পলাশপোলের মনিরুল ইসলাম মিনি শহরের সুলতানপুরের আবু মুছার কাছ থেকে সরকারি আট ফুট রাস্তা দেখে ২৫ শতক জমি কেনেন। ওই জমির পশ্চিম পার্শ্বে ফয়জুল্লাহপুর- ফিংড়ি সড়কের পাশে তিনি ও রমা কুমার মন্ডল প্রায় সাড়ে আট শতক সরকারি খাস জমিতে বসবাস করেন। তাদেরকে অন্যত্র সরাতে না পেরে মনিরুল ইসলাম মিনি স্থানীয় মাইকেলের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাদের দুইজনকে সাবেক জেলা প্রশাসকের সময়ে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার সেনা কর্মকর্তার ছেলের নাম ভাঙান। সে কারণে একই জায়গায় সায়েম ফার্মসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি হিন্দু মন্দিরের থান বাদ দিয়ে গত ১৫ এপ্রিল বুধবার সহকারি কমিশনার সাইফুল ইসলামের উপস্তিতিতে মনিরুল ইসলাম মিনির ভাড়া করা লাল বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তাদের দুটি বাড়িতে ভাংচুর চালানো হয়। চলে যাওয়ার আগে তাদেরকে আগামি সাত দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে চলে না গেলে বুলডোজার দিয়ে জায়গা খালি করা হবে বলে সতর্ক করা হয়। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তারা দুইজন রবিবার জেলা প্রশাসকের কাছে পূর্ণবাসনের আবেদনপত্রসহ দেখা করেন।

এ সময় সহকারি কমিশনার সাইফুল ইসলামের সামনে জেলা প্রশাসক মহোদয় সবকিছু শোনেন। একপর্যায়ে তাদেরকে ভেঙে দেওয়া ঘরবাড়ি সংস্কার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সেখানে বসবাসের অনুমতি দেন। একইসাথে ওই দীর্ঘ কালের বসবাসকারি ভূমিহীন হিসেবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা দেন। একইভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার দ্রুত লাগিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে মুঠোফোনে নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ি বিকেল ৬টায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ স্থাপন করে দেন।

তবে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত একজন সাংবাদিক প্রেসক্লাবের একাংশের সাধারণ সম্পাদক দাবিদার আব্দুল বারির বিপুল পরিমান খাস সম্পত্তি দখলে রাখার ক্যারিশমা তুলে ধরে ওইসব জমি উদ্ধার করে গরীবদের মাঝে বন্টনের দাবি করেন।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ১০টার দিকে সদর সহকারি কমিশনারের উপস্থতিতে ফয়জুল্লাহপুর ঋষিপাড়ায় সরকারি খাস জমির পরিমাপ করা হয়। পরিমাপ শেষে মনিরুল ইসলাম মিনির জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতক, হিন্দু থেকে খ্রীষ্টান ধর্মে রুপান্তরের হোতা বহুল আলোচিত মাইকেলের প্রাচীরের মধ্যে দেড় শতক, সিয়াম ফার্মের মধ্যে চার শতকের বেশি ভাটি মন্দিরে প্রায় এক শতক ছাড়াও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খাস জমির পরিমান নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া আলাউদ্দিন ও রমা কুমার মন্ডলের জমির পরিমান আট শতক বলে নির্ধারণ করা হয়। রমা কুমার মন্ডল ও আলাউদ্দিনের খাস জমি ব্যতীত মিনির দখলে থাকা খাস জমিসহ অবশিষ্ট জমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে উদ্ধার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করে পূনঃরায় বসতবাড়ি সংস্কার করে বসবাস করার সূযোগ দেওয়ায় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে মানবিক ও মহানুভব সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার মন্ডল। এতে মানববতার জয় হয়েছে ও ষড়যন্ত্রকারি সাংবাদিক মিনির নৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২০ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test