E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আসামি হৃদয় ঘোষকে তিন মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

সাতক্ষীরায় ষোড়শীকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলা

২০২৬ এপ্রিল ২৫ ১৯:৪২:০১
সাতক্ষীরায় ষোড়শীকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলা

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির ষোড়শী কন্যাকে একা পেয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামি হৃদয় ঘোষকে গত তিন মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে র‌্যাব এর হাতে গ্রেপ্তারকৃত দেবাশীষ মন্ডলের আজো জামিন মেলেনি। আসামি হৃদয় ঘোষ সাতক্ষীরা সদরের কুলতিয়া গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরের বুধহাটা ইউনিয়নের একটি গ্রামের ষোড়শী এক নারীকে (বর্তমানে কলেজ পড়ুয়া) বেশ কিছুদিন আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধর্ষণ করে কুলতিয়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ি দেবাশীষ মন্ডল। ধর্ষণে বাধা দেওয়া ওই ষোড়শীকে উপর্যুপরি কামড়ে জখম করা হয়। ধারণ করা হয় ধর্ষণের ভিডিও চিত্র। ধর্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বেশ কয়েকবার ওই মেয়েকে ধর্ষণ করে দেবাশীষ। দেবাশীষের সহযোগী ছিলো একই গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের ছেলে কলেজ ছাত্র হৃদয় ঘোষ ও মাদকসেবী হাবিব। বিষয়টি ওই ষোড়শী তার বাবা ও মাকে জানানোর পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে ওই ষোড়শীর মা বাদি হয়ে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১)/১০ ধারা তৎসহ ২০১২ সালের পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)(২)(৩) এবং পেনাল কোডের ৩৪১/৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় দেবাশীষ ও হৃদয় এর নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন আসামী ধরতে গড়িমসি করায় ২৮ জানুয়ারি বুধবার র‌্যাব সদস্যরা সন্ধ্যায় গঙ্গারামপুর মাসিমার বাড়ি থেকে দেবাশীষকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বুধবার রাত ১০টা ৪১ মিনিটে হৃদয় ঘোষ আবারো ওই ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ২৯ জানুয়ারি দেবাশীষ মন্ডল সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম তনিমা মন্ড লের কাছে নিজের ও হৃদয়ের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

মামলার বাদির অভিযোগ, দোবশীষ গ্রেপ্তা হওয়ার পর হৃদয়ের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়েছে তার কৈফিয়ৎ চান জগবন্ধু ঘোষ। বিষয়টি বার বার তদন্তকারি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও তিনি হৃদয়কে ধরার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে গত তিন মাসে হৃদয় ঘোষ রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাঝে মাঝে বাড়িতে ও আসছে বলে জানতে পেরেছেন তিনি। একপর্যায়ে সম্প্রতি সোহরাব হোসেনকে কালিগঞ্জ থানায় বদলী করা হয়। পরবর্তী তদন্তকারি কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

মামলার বাদি আরো আভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ এপ্রিল তার ও ভিকটিমের উপস্থিতিতে দেবাশীষ মন্ডলের জামিন শুনানি হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। বাদির কাঠগোড়া থেকে নেমে তিনি ও ভিকটিম আসামীর কাঠগোড়ার সামনে দিয়ে আসার সময় ভিকটিমকে জামিনের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার বর্তমান তদন্তকারি কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান শনিবার এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি যে কোন সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শণ শেষে আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তারের উদ্রোগ নেবেন।

(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৫ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test