E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

তালা থানায় বাদির পক্ষে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ পেয়েই আগে রেকর্ড হলো আসামির মামলা

২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৮:৪৮:২৬
তালা থানায় বাদির পক্ষে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ পেয়েই আগে রেকর্ড হলো আসামির মামলা

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাদরা গ্রামের তুষার কান্তি রায় এর আদালতে দাখিলকৃত চাঁদাবাজি, মাছ লুটপাট, ভাঙচুর ও মারপিটের মামলাটি এফআইআর হিসেবে গন্য করার আদেশ পেয়েই আগে আসামি আঞ্জুয়ারার দায়েরকৃত মিথ্যা অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করার অভিযোগ উঠেছে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এমনকি আসামীর দায়েরকৃত মামলার আসামিদের ধরতে দৌড়ঝাপ শুরু করলেও তুষার রায় এর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।

গত ১৩ এপ্রিল সাতক্ষীরার আমলী আদালত- ৩ এ তুষার কান্তি রায় এর দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত লীজ ও ডিড নিয়ে মাদরা গ্রামে একটি ঘেরে মাছ চাষ ও ধান চাষ করে আসছিলেন তুষার কান্তি রায়। মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের আব্দুস সামাদ মল্লিকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করলে তুষার বাদি হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (পিটিশন-১১১/২৬ তালা) মামলা করেন। এরপরও আঞ্জুয়ারাসহ আটজন গত ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই মাছের ঘেরে ঢুকে ঘের করত হলে বাদিকে মাসিক এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে জানায়। একপর্যায়ে তারা দুই লাখ টাকার গলদা চিংড়ি ছাড়াও পৌনে দুই লাখ টাকার অন্যান্য মাছ লুট করে। ভাংচুর করে ঘেরের বাসা, গইসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বিচারক শফিকুল ইসলাম। এ সংক্রান্ত আদেশটি ১৭ এপ্রিল তালা থানায় পৌঁছায়। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ওইদিনই ১০ নং মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন।

এদিকে ২০২৬ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের আব্দুস সামাদ মল্লিকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা তার ননদের ছেলে ও মেয়ের কাছ থেকে লীজ ও ডিড নিয়ে ২৭ মার্চ সকালে ঘেরে মাছ চাষ করতে গেলে তুষার কান্তি রায় ও নিশান কান্তি রায় তাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয় মর্মে ১৭ এপ্রিল তালা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলাটি ওই দিন ৯ নম্বর মামলা হিসেবে তুষারের মামলার আগেই রেকর্ড করা হয়।

তুষার কান্তি রায়ের অভিযোগ, তার দায়েরকৃত মামলাটি পরে ও আঞ্জুয়ারার দায়েরকৃত মিথ্যা এজাহারটি আগে রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ তার দায়েরকৃত মামলার আটজন আসামীর একজনকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও আঞ্জুয়ারার মামলার আসামী হিসেবে তাকে ধরার জন্য নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তুষারের দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন জানান, তদন্ত সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আঞ্জুয়ারার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দুটি মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২৮, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৮ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test