E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ

২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৯:১১:৫৫
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আজ এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেলে বাটন টিপে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে সগৌরবে প্রবেশ করল। এর মাধ্রমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাতে সক্ষমতা অর্জন করল বাংলাদেশ।

জ্বালানী লোডিং উপলক্ষ্যে প্রকল্প এলাকায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ যৌথভাবে বাটন চেপে এই মাহেন্দ্রক্ষণের উদ্বোধন করেন।

এসময় অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ডিরেক্টর মিস্টার ওয়েই শুয়াং, রোসাটমের ডেপুটি ডিরেক্টর মিস্টার আন্দ্রে পেট্রোভ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজেন্ডার খোজিন এবং রুশ ফেডারেশন ও বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের জন্য আজকে এই দিনটি ঐতিহাসিক। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়া আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকৃত্তিম বন্ধু। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় রাশিয়া রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তাই বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার। এই পারমাণবিক কেন্দ্র ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেবে।

চুল্লিতে পরমাণু রড আপলোডে জ্ঞান ভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ । প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, আজ বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাতারে যোগ দিয়েছে। নিঃসন্দেহে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার একটি মূল উপাদান হয়ে উঠবে। রোসাটমের জন্য, এই প্রকল্পটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শিল্পের উন্নয়নে এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা আমাদের বাংলাদেশী বন্ধুদের সাথে একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে একসাথে কাজ করতে পেরে আনন্দিত এবং আরও সহযোগিতার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছি। এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সহযোগিতা থাকবে রোসাটমের।

স্বাগত বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও নিরাপত্তা বজায় রেখে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তির নতুন দুয়ারে প্রবেশ করলো। রূপপুর থেকে এই রূপান্তর ভবিষ্যত প্রজন্মকে এগিয়ে নেবে। তিনি জানান, এক বছরে পাচটি ধাপ অতিক্রমের মাধ্যমে আজ প্রথম চুল্লিতে ইউরোনিয়াম লোডিং করা সম্ভব হলো।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক নানা প্রতিবন্ধকতায় কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও সরকারের দৃঢ়তায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করায় গত ১৬ এপ্রিল রূপপুর কর্তৃপক্ষকে পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী জুলাই বা আগস্ট মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। এক বছর পর প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে সেখান থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ পাবে

রূপপুর প্রকল্পের ইতিহাস সুদীর্ঘ। ১৯৬১ সালে এর প্রাথমিক ধারণা উত্থাপিত হয়। ১৯৬২ সালে সম্ভাব্য বারোটি স্থান মূল্যায়নের পর পাবনার রূপপুরকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। কিন্তু সেসময় পাকিস্তান সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে যায়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রূপপুরে পারমাণবিক চালুর বিষয় নিয়ে অগ্রগামী হলেও পঁচাত্তরের পর কার‌্যক্র বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে ফরাসি প্রতিষ্ঠান Sofratom কর্তৃক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দীর্ঘসময় ধরে স্থগিত থাকে। পরে ১৯৭৯ সালেও ফের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে রূপদান করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক শক্তিকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে ধারাবহিকতায় ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি আন্ত:রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি (IGA) স্বাক্ষর করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ঈশ্বরদীর রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চুক্তির আওতায় প্রারম্ভিক কার্যাবলি সম্পাদন করে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশান ফেডারেশনের স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন রোসাটম (Rosatom)-এর ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পনী JSC Atomstroyexport-এর মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জেনারেল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রর নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন, কমিশনিং, পরীক্ষামূলক পরিচালনা, জনবলের প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রথম ইউনিটের ফাস্ট কনক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম নিউক্লিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করে। পরের বছর ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইউনিটে ফাস্ট কনক্রিট ঢালাই করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানী (ইউরেনিয়াম) প্রকল্প সাইটে এসে পৌছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ২০২৪ সালে আইএইএ এর গাইড লাইন অনুযায়ী রিয়্যাক্টরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুচারু ভাবে সম্পাদন করা হয়। ২০২৫ সালে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সঞ্চালনরে জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এনপিসিবিএল এর ড. জাহেদুল হাসান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রিঅ্যাক্টর ভবন, টারবাইন ভবন, কুলিং সিস্টেম, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন এবং বিভিন্ন সহায়ক স্থাপনাসহ মোট ৩৮৯টি স্থাপনার একটি বিস্তৃত অবকাঠামোর ভৌত নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। ভৌত নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ এর প্রস্তুতি পর্যায় শুরু হচ্ছে।

তিনি বলেন, রি-অ্যাক্টরের ডিজাইন অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রি-অ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হয় এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ। এ পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রি-অ্যাকশন ঘটানো হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হবে। পরীক্ষা শেষে রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে পর্যায়ক্রমে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% উন্নীত করা হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৪০ দিন। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের পাওয়ার বৃদ্ধি করা হয় ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় যা Stage D- Trial Operation নামে অভহিত করা হয়। উক্ত সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় গ্রীডে ১০০% বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার কোনো ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। অর্থাৎ এই সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এরপর বাংলাদেশকে জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। তবে সেই জ্বালানি দুই বছর পর পর পরিবর্তন করলেই চলবে।

আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মান করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এতমস্ত্রয় এক্সপোর্ট। দাম শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে এখন দাম ১২ টাকা পড়বে।

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের উন্নত ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিভিত্তিক দুটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সক্ষমতা রয়েছে। আধুনিক কন্টেইনমেন্ট কাঠামো, কোর ক্যাচার এবং মাল্টি-লেভেল সেফটি ডিজাইনের সমন্বয়ে এই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। বিদ্যুৎকেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি ভৌত নির্মাণ কার্যক্রম এবং ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিটি ইউনিট হতে নির্ধারিত আয়ুষ্কাল অনুযায়ী ৬০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে যা প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা সম্ভব বলে জানা গেছে।

কাজেই, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একইসাথে, এই প্রকল্প বাংলাদেশের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

(এসকেকে/এসপি/এপ্রিল ২৮, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৮ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test