E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

২৫০ পরিবারের যাতায়াতের পথ নেই

২০২৬ মে ১০ ১৮:০৪:২৬
২৫০ পরিবারের যাতায়াতের পথ নেই

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গ্রামে ২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি আছে। সেখানে ধান, পাট, গম, সরিষা, খেসারি, মসুর সহ কৃষি পণ্য চাষাবাদ হয়। পুকুর ও ঘেরে উৎপাদিত হয় প্রচুর মাছ। রয়েছে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির খামার। এ সেক্টর থেকে ১০ কোটি টাকার কৃষি পণ্য উৎপাদিত হয়। এছাড়া গ্রামটিতে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গীর্জা। এ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শৈলদহ নদী ও ছোট-খাট ৩টি খাল। খাল ও নদীর পানি গ্রামকে করেছে সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা। সবুজ প্রকৃতি গ্রামটিকে ছায়া সুশীতল করে রেখেছে। ছবির মতো গ্রামটির নাম চৌরখুলী মধ্যপাড়া। এটির অবস্থান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নে। ওই গ্রামে ২৫০টি পরিবারের বসবাস। 

পরিবারগুলোর সদস্যদের যাতায়াতের কোন পথ নেই। তাই কৃষি পণ্য পরিবহন, যাতায়াত সহ ওইসব পরিবারের সহস্রাধিক সদস্যের দুর্ভোগের শেষ নেই। সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন ও মুমূর্ষ রোগী পরিবহনে দুর্ভোগ আরো প্রকট আকার ধারণ করে।

দুর্ভোগ লাঘবে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি রাস্তা নির্মাণের দাবিতে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর বৃহস্পতিবার (৭ মে) একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

ওই আবেদনে বলা হয়েছে, কুশলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মূল রাস্তা মনিরুজ্জামান সুপার মার্কেট থেকে দক্ষিণ চৌরখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। এরপর মধ্যপাড়া গ্রাম শুরু। ওই গ্রামে যাতায়াতের কোন সড়ক নেই। এখানে বসবাসকারী ২৫০ পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি, কাঁদা ও জলাবদ্ধতার মধ্যে জীবনযাপন করে আসছে। এ সময়ে কিছু কিছু পরিবার নৌকায় তাদের যাতায়াত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। রাস্তা না থাকায় গ্রামের এ অংশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা, শিশুদের স্কুলে যাতায়াত, জীবনযাত্রা মান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে অন্তহীন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে, শৈলদহ নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কাশেম আলী শেখের বাড়ি থেকে আলম শেখের বাড়ি হয়ে দক্ষিণ চৌরখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবিতে পরিনত হয়েছে।

ওই গ্রামের ফরহাদ মোল্লা, হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, আমাদের গ্রামে অন্তত ১০ কোটি টাকার কৃষি পন্য, মাছ ও গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি উৎপাদিত হয়। এসব পণ্য আমরা বাজারজাত করতে পারি না। রাস্তা না থাকায় পণ্যের ন্যয্য মূল্য পাই না। পানির দামে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে হয়। আশ পাশের সব গ্রামে রাস্তাঘাট হয়েছে। কিন্তু আমাদের গ্রামে রাস্তা হয়নি। তাই উৎপাদিত কৃষি পণ্য মাথায় করে বহন করতে হয়। এছাড়া সমাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়। মুমূর্ষ রোগী পরিবহনে আমাদের কষ্টের শেষ নেই। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াতেও দুর্ভোগে পড়ে। দ্রুত আমাদের রাস্তাটি করে দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। রাস্তা হলে গ্রামের কৃষি ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আসবে। পণ্যের ন্যয্য মূল্য পেয়ে লাভের বেশি টাকা ঘরে তুলতে পারবো। গ্রামের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।

চৌরখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম শেখ বলে, জমির আইল ও বিভিন্ন বাড়ির উপর দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে কাদা জমে। যাতায়াতে অনেক সময় হোচট খেয়ে পড়েযেতে হয়। এছাড়া বর্ষাকালে জমির আইল তলিয়ে যায়। তখন কাদা-পানি ভেঙ্গে স্কুলে যেতে হয়। কাদা-পানিতে বই, খাতা ও স্কুল ড্রেস নষ্ট হয়। তাই এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে, রাস্তা নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

ওই গ্রামের এনায়েত মোল্লা বলেন, ১ কিলোমিটার রাস্তা করে দিলেই আমাদের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়। রাস্তা করতে আমাদের গ্রামের রাসেল মোল্লা, আতাউল্লাহ, আলম শেখ, মোতাহার মোল্লা, তালেব আলী ও ফরহাদ আলী জমি দিতে চাইছেন। এখানে রাস্তার জায়গা নিয়ে কোন জটিলতা নেই। রাস্তা হলে আমাদের জায়গা জমির দামও বাড়বে।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, আবেদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে রাস্তা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়ার পর এটি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। রাস্তার জমি নিয়ে কোন জটিলতা থাকলে এটি বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়ে। তারপও গ্রামবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে আমরা রাস্তা করে দিতে চাই।

(টিবি/এসপি/মে ১০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১০ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test