E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

২ বছরেও উদঘাটন হয়নি বৃদ্ধা রিজিয়া হত্যার রহস্য, ক্ষুব্ধ স্বজনসহ এলাকাবাসী 

২০২৬ মে ১২ ১৭:৪৬:৩৬
২ বছরেও উদঘাটন হয়নি বৃদ্ধা রিজিয়া হত্যার রহস্য, ক্ষুব্ধ স্বজনসহ এলাকাবাসী 

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চরমঙ্গলহাটা গ্রামে চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম (৭০) হত্যা মামলার দু'বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন বা আসামী গ্রেফতার হয় নাই।

প্রথমে মামলাটি লোহাগড়া থানা পুলিশের তদন্তাধীন থাকলেও পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার নড়াইল জেলা সিআইডি'র ওপর অর্পণ করা হয়। তবে এখনও হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি সিআইডি। আদৌ চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে কিনা- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাম নারায়ণ পাবলিক লাইব্রেরীর সন্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় নিহতের ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী রবিউল ইসলামসহ উপস্থিত এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিন মতবিনিময় সভায় মামলার বাদী রবিউল ইসলামের চাচা সিদ্দিকুর রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ, মো.খায়রুজ্জামান ডাবলু, খিজির আহমেদ, টিএম শফিকুল ইসলাম সবুজ, প্রদীপ চৌধুরীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, চরমঙ্গলহাটা গ্রামের মরহুম তবিবর রহমানের স্ত্রী পাঁচ সন্তানের জননী রিজিয়া বেগম বাড়িতে প্রায় সময় একাই থাকতেন। ঘটনার দিন বিগত ২০২৪ সালের ১১ মে তার ছেলে রবিউল ইসলাম রাত ১০টার দিকে বাড়ি গিয়ে দেখতে পান তার মা রিজিয়া বেগম জানালার সঙ্গেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রয়েছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বাড়িতে রিজিয়া বেগম ছাড়া তেমন কেউ না থাকার সুযোগে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটে নেয় দুর্বুত্তরা।

এ ঘটনার পরের দিন ১২ মে সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে লোহাগড়া থানা পুলিশ নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠালে সেখানে তার ময়নাতদন্তে শেষ হয়। পরেদিন ১৩ মে নিহতের ছেলে রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে থানা পুলিশের তদন্তে ৬ মাসের বেশি সময় পর হলেও মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পরে একই বছরে পিবিআই বা সিআইডির অধীনে তদন্ত চান মামলার বাদী। বাদীর আবেদনের পরিপেক্ষিতে পরে মামলাটি সিআইডি নড়াইলকে তদন্তভার দেয়া হয়।

মামলার বাদী ও নিহত রিজিয়া বেগমের ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, মামলার ২ বছর পার হলেও আমার মায়ের হত্যাকারী শনাক্ত এবং চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার বা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি প্রশাসন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল আমার বাড়িতে অজ্ঞাত চোরেরা ৪ টি সিসি ক্যামেরা ও বিদ্যুতের তারসব অন্যান্য মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া ফ্যান চুরি করে চোরেরা তবে এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দিলেও চোর সনাক্ত বা মালামাল উদ্ধার হয়নি। তিনি তার মায়ের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

হত্যার ঘটনায় নড়াইল জেলা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, 'রিজিয়া হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি নিহতের বাড়িতে চুরির ঘটনার বিষয়ে জানতে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার বা অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

(আরএম/এসপি/মে ১২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১২ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test