E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পেনশন সহজীকরণে অনন্য অবদানের রোল মডেল আব্দুল খালেক

২০২৬ মে ২৪ ১৮:০১:৫৫
পেনশন সহজীকরণে অনন্য অবদানের রোল মডেল আব্দুল খালেক

ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : নীলফামারী জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে আজ। জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার হিসেবে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা মো: আব্দুল খালেক আজ তাঁর শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত করছেন। সরকারি চাকুরিজীবীদের অবসরকালীন সময়ে পেনশন প্রাপ্তির প্রথাগত জটিল ও দীর্ঘসূত্রী প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিয়ে তিনি হিসাব রক্ষণ বিভাগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। পেশাগত জ্ঞান, সততা এবং সুশাসনের এক অনন্য সমন্বয়ে পেনশনের ফাইল আটকে থাকার সাধারণ চিত্র দূর করে মাত্র এক দিনেই পেনশন নিষ্পত্তির অভাবনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

এই যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিজিএ) এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে ‘ইনোভেশন সার্কেলের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা’ হিসেবে তিনি বিশেষ সম্মাননা ও প্রশংসা পত্র লাভ করেছেন। কর্মক্ষেত্রের শেষ দিনে এসেও তাঁর এই প্রাতিষ্ঠানিক অবদান, আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রবীণ পেনশনারদের প্রতি মানবিক সেবা প্রদানের গৌরবময় উত্তরাধিকার নীলফামারী জেলা তথা সমগ্র দেশের সরকারি দপ্তরের জন্য এক অন্তহীন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার হিসেবে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা মো: আব্দুল খালেক আজ তাঁর শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত করছেন। একটি জেলার আর্থিক ব্যবস্থার সচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি ব্যয়ের সঠিক তদারকি করার মতো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল দায়িত্ব তিনি যেভাবে সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

কর্মজীবনের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি শুধু একজন দক্ষ সরকারি কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং তাঁর কার্যালয়ের সহকর্মী এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছে একজন নীতিবান ও মানবিক গুণসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ এবং দাপ্তরিক কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে তাঁর ভূমিকা জেলা পর্যায়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আজ কর্মক্ষেত্রের এই আনুষ্ঠানিক বিদায়লগ্নে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত চিত্তে তাঁর অবদানকে স্মরণ করছেন।

কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর গ্রহণ জীবনের একটি স্বাভাবিক নিয়ম হলেও, মো: আব্দুল খালেকের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তার প্রস্থান নীলফামারী জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করবে। বিদায়ের এই ক্ষণে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অবসর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের অনাবিল সুখ ও শান্তি কামনা করা অপরিহার্য, যিনি তাঁর মেধা ও শ্রম দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা করে গেছেন।

সরকারি চাকুরিজীবীদের কর্মজীবনের সবচেয়ে আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো অবসর গ্রহণ, আর এই অবসরকালীন সময়ে পেনশন প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি দীর্ঘকাল ধরে এক জটিল ও দীর্ঘসূত্রী বিষয় হিসেবেই পরিচিত ছিল। এই প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে হিসাব রক্ষণ বিভাগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন নীলফামারী জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার মো: আব্দুল খালেক। পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততা এবং সুশাসনের এক অনন্য সমন্বয়ে তিনি সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

হিসাব রক্ষণ বিভাগে তাঁর সবচেয়ে যুগান্তকারী অবদান হলো পেনশন প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আমূল সহজীকরণ ও গতিশীল করা। যেখানে পেনশনের ফাইল বছরের পর বছর আটকে থাকার সাধারণ চিত্র দেখা যেত, সেখানে তাঁর উদ্ভাবনী ও আন্তরিক উদ্যোগের ফলে মাত্র দুই কর্ম দিবসে পেনশনের যাবতীয় কাগজপত্র নিষ্পত্তি হতে শুরু করে। তাঁর এই ইনোভেশন বা উদ্ভাবন এখানেই থেমে থাকেনি, বরং পরবর্তী সময়ে তা আরও সংকুচিত হয়ে মাত্র এক দিনেই পেনশন নিষ্পত্তির অভাবনীয় সাফল্যে রূপ নেয়।

তাঁর দপ্তরে কোনো পেনশনের ফাইল অনিষ্পত্তি অবস্থায় পড়ে না থাকার এই যে মহান সংস্কৃতি, তা পুরো বিভাগের জন্য এক পরম গৌরব।

এই অনন্য ও দূরদর্শী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ভূয়সী প্রশংসা ও সম্মাননা লাভ করেছেন। নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের সেবার মানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিজিএ) মোঃ নূরুল ইসলাম স্বয়ং তাঁকে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও প্রশংসা পত্র প্রদান করেন। একই সাথে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকেও তাঁর এই নাগরিক চার্টার বাস্তবায়নের দক্ষতাকে দেশব্যাপী বাস্তবায়নের নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। মাঠ পর্যায়ে একজন কর্মকর্তার উদ্ভাবনী চিন্তা কীভাবে গোটা বিভাগের গৌরব বাড়িয়ে দিতে পারে, আব্দুল খালেক তার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

সংবাদ মাধ্যমে ‘ইনোভেশন সার্কেলের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা’ হিসেবে সমাদৃত আব্দুল খালেকের এই কর্মপদ্ধতি আজ দেশের সমগ্র হিসাব রক্ষণ বিভাগের জন্য একটি গাইডলাইন বা অনুকরণীয় মডেল। সততা, পেশাদারিত্ব এবং বিশেষ করে সম্মানিত প্রবীণ পেনশনারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিকতার যে নজির তিনি তাঁর মেধা দিয়ে স্থাপন করেছেন, তা হিসাব রক্ষণ বিভাগের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কর্মক্ষেত্রের শেষ দিনে এসেও তাঁর এই প্রাতিষ্ঠানিক অবদান ও জনবান্ধব সেবার গৌরবময় উত্তরাধিকার নীলফামারী জেলা তথা সমগ্র বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরের জন্য এক অন্তহীন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

(ওকে/এসপি/মে ২৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৪ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test