E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সাতক্ষীরায় কারাবন্দী আ.লীগ নেতা আব্দুল লতিফের মৃত্যু

২০২৬ মে ২৫ ১৮:২৭:৫৩
সাতক্ষীরায় কারাবন্দী আ.লীগ নেতা আব্দুল লতিফের মৃত্যু

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জজ কোর্টের সাবেক পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ কারাগারে অন্তরীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার ভোরের দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আব্দুল লতিফ (৬৬) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের মুনসুর আলী সরদারের ছেলে ও বর্তমানে শহরের রসুলপুরের বাসিন্দা।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ ত্রিদেব দেবনাথ জানান, বুকের যন্ত্রণা নিয়ে অ্যাড. আব্দুল লতিফকে জেলা কারাগার থেকে সোমবার ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভোর ৪টা ১০ মিনিটে মেডিসিন ওয়ার্ডের ৪ নং শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থান তিনি মারা যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের মেহেবুবা খানম শাম্মি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করার পর তার বাবা অ্যাড. আব্দুল লতিফ ও ভাই আমিনুর ইসলাম রাসেল আত্মগোপন করেন। তার বাবাকে ৮টি হত্যা নাশকতা মামলাসহ ১০টিরও বেশি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। একইভাবে ভাই আমিনুর ইসলাম রাসেলকে চারটি মিথ্যা মামলায় আমামী করা হয়। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে খুলনার বয়রা এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তার বাবাকে এ পর্যন্ত চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও একটিতেও জামিন পাননি তিনি। অপরদিকে তার ভাই আমিনুল ইসলাম রাসেল তিনটি মামলায় জামিন পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্ত হন। সোমবার ভোরে কারাগার থেকে মুঠোফোনে খবর পান যে তার বাবা বুকের যন্ত্রণা অনুভন করায় তাকে জরুরী ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান।

কামারবায়সা গ্রামের আকবর আলী ও আব্দুল মালেক জানান, বিডিআরে কর্মরত থাকাকালিন দূর্ণীতির কারণে আব্দুল লতিফকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি ভারতীয় গরুর খাটাল তৈরি করে বা করিডোরের মাধ্যমে ভারত থেকে গরু এনে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তণ করেন। পরবর্তীতে সাংসদ মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর বনে যান। তিনি অনিয়ম ও দূর্ণীতির মাধ্যমে প্রচুর টাকার মালিক হলেও রসুলপুরে পাঁচতলা বাড়ি বানানোর সময় ব্যাংক ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। পরে সেই ঋণ পরিশোধ করতে পাঁচতলা ভবনের একটি অংশ বিক্রি করে দেন। আবারো একটি অংশ বিক্রি করতে যেয়ে সাতক্ষীরা সাব রেজিষ্টার অমায়িক বাবুর উপস্থিতিতে খুলনার বয়রা এলাকা থেকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ছেলে রাসেলসহ গ্রেপ্তার হন। ঝাউডাঙা ডিগ্রী কলেজ সরকারিকরণ ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি করণের কথা বলে আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে আমিনুর ইসলাম রাসেল দেড় কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০২ সালের ৩০ আগষ্ট কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের টার্গেট ছিলেন।

সাতক্ষীরা কারাগার থেকে বাড়িতে ফোন করা এক আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে জানা যায়, ছেলে আমিনুর ইসলাম রাসেল রবিবার বিকেল কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আব্দুল লতিফ খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তার রাসেলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। পাওনাদাররা রাসেলকে দেখতে পেলে মব সৃষ্টির মাধ্যমে মেরে ফেলতে পারে এমন দুশ্চিন্তা থেকে রবিবার মাঝরাতে আব্দুল লতিফের বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কারাহাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের সুপার দেবদুলাল কর্মকার জানান, সোমবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বুকে যন্ত্রণা শুরু হলে আব্দুল লতিফকে জরুরী ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোর চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আব্দুল লতিফের লাশ তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

(আরকে/এসপি/মে ২৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৫ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test