E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

চাটমোহরের মথুরাপুরে আশিকের মৃত্যু মামলায় ষড়যন্ত্রমুলক ফাঁসানো ও টাকা দাবির অভিযোগ

২০২৬ জুন ০৪ ১৭:৫৫:২৮
চাটমোহরের মথুরাপুরে আশিকের মৃত্যু মামলায় ষড়যন্ত্রমুলক ফাঁসানো ও টাকা দাবির অভিযোগ

চাটমোহর প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের শাকিল হোসেন ওরফে আশিক নামে এক যুবকের অপমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও মামলা থেকে রেহাই দিতে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রথমে অভিযুক্ত একজন সেই মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (০৩ জুন) বিকেলে মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোহেল হোসেন, ইউসুফ আলী, মনির হোসেন সহ শতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

অপমৃত্যু মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে শাকিল ওরফে আশিক ৫ বছর আগে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করে। ট্রলি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। বিয়ের পর থেকে শাকিল ওরফে আশিক শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সাংসারিক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হতো। তারই জেরে চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। সকাল ৬টার দিকে শাকিল ওরফে আশিককে ঘরের ডাবের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার স্ত্রী রিমা। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন মৃত শাকিল ওরফে আশিকের পিতা জিয়াউর রহমান। মামলা নং ৬। তারিখ-২৮/০২/২০২৬। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে পারিবারিক দ্বন্দ্বে অভিমান করে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোহেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনায় পরবর্তীতে মৃত শাকিল ওরফে আশিকের পরিবার থানায় একটি অভিযোগ দেন। যেখানে মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের খাঁর ছেলে আরিফ খাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অথচ গত ৯ মার্চ'২৬ তারিখে মৃত আশিকের মা শামিমা বিবি বাদি হয়ে পাবনা আমলী আদালত-৪ এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সেখানে সেই আরিফ কে স্বাক্ষী করা হয়েছে। আর সেই মামলায় আমাদের কয়েকজনকে মিথ্যা অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার পর থেকে আরিফ, তার ভাই কিরণ ও তারা মিয়া মামলা থেকে আমাদের নাম বাদ দিতে ৩ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় তারা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে ও ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছে।

আরেক ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, মুলত একটি জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিরণ খাঁর সাথে আমার দ্বন্দ্ব চলছে অনেকদিন ধরে। তার প্রতিশোধ নিতে কিরণ ও তার ভাই আরিফ মৃত আশিকের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তাদের দিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছে। আর এখন সেই মামলা থেকে আমাদের নাম বাদ দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করছে। আবার আগের অভিযোগে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত আরিফকে আমাদের বিরুদ্ধে মামলায় স্বাক্ষী করা হয়েছে। এখানেই পরিস্কার যে মামলাটি মিথ্যা ও সাজানো। আমাদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী অনেকে উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, দুই ভাই কিরণ ও আরিফ এবং একই এলাকার মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়া তাদের একটি গ্রুপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জমি দখল, চাঁদাবাজী সহ নানা অপকর্মে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা ভোল পাল্টে বিএনপির সাথে মিশে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সবাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন কিরণ খাঁ বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। মামলা করেছে ছেলের বাবা, সেই ভালো বলতে পারবে। আমরা তাদের কাছে কোনো টাকা দাবি করি নাই। এসব অভিযোগ পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তারাই উল্টো গতকাল মঙ্গলবার বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারপিট করে গেছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

(এসএইচ/এসপি/ জুন ০৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৪ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test