E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

সোনাতলায় শিক্ষকের মারধরে অসুস্থ ছাত্র, অভিভাবকদের ক্ষোভে উত্তাল

২০২৬ জুন ০৯ ১৯:১৪:৪৫
সোনাতলায় শিক্ষকের মারধরে অসুস্থ ছাত্র, অভিভাবকদের ক্ষোভে উত্তাল

বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় এমএইচ ইউনিহেল্প উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বেত্রাঘাতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রের মা মোছাঃ বুলবুলি বেগম সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার খুপি গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ বুলবুলি বেগমের ছেলে মোঃ অমিত হাসান (১৩) দিগদাইড় এম এইচ ইউনিহেল্প উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। গত ২৩ শে মে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় পায়ে শারীরিক সমস্যার কারণে সে নির্ধারিত জুতা পরতে পারেনি। এ কারণে বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম তাকে বেত্রাঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, শিক্ষকের মারধরের একপর্যায়ে অমিত অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে জ্ঞান ফেরানো হয় এবং এক সহপাঠীর মাধ্যমে বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছাত্রকে বেত্রাঘাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ড্রেস না পরে আসার কারণে তাকে শাসন করা হয়েছে। শরীরের কোন অংশে আঘাত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মারছি তো কী হয়েছে, এটা কোনো বিষয় না।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন মিয়া বলেন, এর আগেও ওই ছাত্রকে অসদাচরণের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এবার স্কুল ড্রেস ছাড়া আসায় তাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কিছুই করতে পারবে না।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অনেক শিক্ষকই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের সময় হাতে বেত বহন করছেন। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক ছাড়া উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু অমিত হাসান নয়, অতীতেও বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে শারীরিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কবির হোসেন বলেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করাটা ঠিক করেনি। আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চয় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষককের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

(বিএস/এসপি/জুন ০৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৯ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test