E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুস্থ নারীদের চাল বিতরণ করছেন চেয়ারম্যান, জানেন না কর্মকর্তারা 

২০২৬ জুন ২৫ ১৯:০৫:৪৮
নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুস্থ নারীদের চাল বিতরণ করছেন চেয়ারম্যান, জানেন না কর্মকর্তারা 

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুস্থ নারীদের চাল বিতরণ করছেন চেয়ারম্যান-মেম্বার, কিন্তু জানেই না ট্যাগ অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। এছাড়া উপকারভোগীরা সবাই সেখানে  উপস্থিত ছিলেন না। তারপরও একাধিক নামের চাল উপস্থিত উপকারভোগির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় চাল বিতরণ। তবে ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাসের দাবি ট্যাগ অফিসার কল ধরে না। আর ট্যাগ অফিসার ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হোসেন আলীর দাবি চাল বিতরণ করা হবে সেটা জানাননি চেয়ারম্যান।

জানা যায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় প্রতিমাসে উপকার ভোগীদের কার্ডপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।

সরজমিনে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাসের ১ নং ওয়ার্ডের ১৬ টি কার্ডের নামের চাল ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছে ৪ মহিলা। আর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ টি কার্ডের নামের চাল ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছে ১ ব্যক্তি। তখন তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান তাদের কাছ থেকে চাল উপকারভোগীরা নিয়ে নেবেন। আর চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারও উপস্থিত নেই।

এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস বলেন, অনেক উপকারভোগী এসে সই দিয়ে চলে যায়, তখন তাদের সবার চাল দুই-একজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ট্যাগ অফিসারের প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, তিনি ফোন না ধরায় জানাতে পারিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে মাষ্টাররোলে ভূয়া সই দেন। একজনের চাল অন্য জনের কাছে দিয়ে দেন। এতে অনেক উপকারভোগী চাল পায় না। এই চাল কোথায় যায় সেটা চেয়ারম্যান ভালো জানেন।

তবে ভিন্ন কথা বলেছেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার হোসেন আলী বলেন, চেয়ারম্যান চাল বিতরণের কোন খবর আমাকে জানায়নি। তাই আমি জেলা অফিসে কাজে এসেছি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী বলেন, চলতি মাস সহ গত তিন মাস চাল দেয়ার সময় আমাকে জানায়নি চেয়ারম্যান। তবে এক জনের চাল অন্য জনের কাছে দেয়ার কোন নিয়ম নেই। কারণ এতে উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে জেনে যার নামের চাল তাকেই দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি কোন উপকারভোগী চাল না পায় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(টিবি/এসপি/জুন ২৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৫ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test