E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ

২০২৬ জুন ২৯ ১৮:৩৭:০৪
হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম : উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর থেকে উপজেলার ঘড়িয়াডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢ়ুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। এদিকে পানি বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের খবরে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে চর বিদ্যানন্দ, রামহরি, চতুরা, তৈয়বখাঁ, বুড়িরহাট, খিতাবখাঁ, চর গতিয়াসাম, মাঝের চরসহ বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল হঠাৎ করেই পানি প্রবেশ করে। পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার(২(জুন) সকালে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ২৫ মিটার। যা বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টার পর থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা আরও ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চর বিদ্যানন্দ এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে গনি মুন্সী (৫০), শরিফুল ইসলাম (২৫), মোস্তফা (৩৫), তামিম (২৫), মিয়ার আলী (২৬), আব্দুস সালাম (৪৫), রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও আব্দুল জলিল (৫০)-এর বসতভিটা তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা আরও অনেক পরিবার বাড়িঘর খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।

চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম (৪০) বলেন, "হঠাৎ করেই নদীর পানি অনেক বেড়ে গেছে। নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেকের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।"

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢলের কারণে দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

(পিএস/এসপি/জুন ২৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৯ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test