E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

সাবেক এমপি লায়লা পারভিন সেঁজুতি ফের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার 

২০২৬ জুন ২৯ ১৮:৪৬:৫৬
সাবেক এমপি লায়লা পারভিন সেঁজুতি ফের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সাবেক সাংসদ ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারো একটি অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে অহিদ হত্যা মামলায় জামিন লাভ করার পর মামলার কুচপুকুরের আনিছুর হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাথের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। একইসাথে তাকে ওই মামলায় তার জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করা হয়। 

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। রাতে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীর বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট শেষে আগুন দেওয়া হয়। কুপিয়ে জখম করা হয় বহু মানুষকে। এরই ধারাবাহিকতায় তৎকালিন সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতির বাড়ি, গাড়ি ও পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ মে গভীর রাতে সেঁজুতিকে পুলিশ তার রাধানগরস্ত বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আলীপুরের অলিউর রহমানের দায়ের করা বাইপাস সড়কে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক সংক্রান্ত মিছিলের মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকাকালিন তাকে বাইপাস সড়কে মৎস্যজীবী দলের নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়ি সংলগ্ন অফিস ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

একইভাবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বাইপাস সড়কে লাঠিশোটাসহ মিছিল ও সরকার পতনের চেষ্টার ঘটনায় আলীপুরের আব্দুল হামিদ সরদারের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জিআর-৭৭/২৫ ও জিআর-৯৬ ২৫ নং মামলায় সেঁজুতি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। জিআর-২৭৮/২৫ নং মামলায় গত ৩ জুন তিনি মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলে ১০ জুন সাতক্ষীরা আদালত থেকে তার জামিননামা সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ১৬ জুন তা না’মঞ্জুর হয়। আপিল সংক্রান্ত একটি চিঠি সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠান। ফলে সুপ্রিম কোর্টে জামিনাদেশ স্থগিত না হলেও ১০ জুন পাঠানো জামিননামা কার্যকর করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর সেঁজুতিকে গত ২০২০ সালের ১৬ মার্চ ধুলিহরের অহেদ আলী অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী পারুল বেগমের দায়েরকৃত ১৩ জুন সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর-২৯৯/২৪ নং মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। ওই মামলায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ মোঃ নজরুল ইসলাম গত ২৫ জুন তাকে জামিন দেন। জামিননামা ওইদিন জেলখানায় পাঠানো হলেও তার ২৭৮/২৫ নং মামলায় জামিননামার কার্যক্রম কারাগারে ঝুলে থাকে। এর বিরুদ্ধে সেঁজুতির আইনজীবীরা রবিবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করলে তিনি কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এরপরপরই সেঁজুতির স্বজন ও আইনজীবীরা জানতে পারেন যে, তাকে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে শহরতলীর কুচপুকুরের অজিহার মোড়লের ছেলে আনিছুর অপহরণ ও হত্যা মামলায় (জিআর-৪০২/২৪ সদর) সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ২৫ জুন ধুলিহরের অহিদ হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরপরই আবেদন করা হয়।

এদিকে সোমবার আদালত চত্বরে লায়লা পারভিন সেঁজুতি তার শুভাকাঙ্খীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অন্যায় চিরদিন পরাজিত হয়। তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এর সুফল তিনি দ্রুত পাবেন। তিনি সকলকে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান।

এদিকে জানতে চাইলে রবিবার বিকেলে ধুলিহরের পারুল বেগম মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি মামলা সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না। তাকে দিয়ে যারা মামলা করিয়েছেন তারাই মামলার বর্তমান অবস্থা বলতে পারেন। লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে তিনি চেনেন না।

কুচপুকুরের অনিছুর হত্যা মামলার বাদি মকফুর রহমান রবিবার বিকেলে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি যাদের নামে ভাই হত্যা মামলা করেছেন তাদের প্রত্যেককে চেনেন। বর্তমানে ওই মামলায় একজন গ্রেপ্তার ও দুইজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র সম্পর্কে তিনি ১৫/২০ দিন আগে তদন্তকারি কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছিলেন।

লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কাউকে হয়রানি করতে চান না। সেঁজুতিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে অবশ্যই তার সঙ্গে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার কথা বলা উচিত ছিল। কারণ যাকে তাকে আসামী করা অনুচিত। অহেতুক কাউকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তাকে সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাব দিতে হবে।

এ ব্যাপারে আনিছুর রহমান হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশান সাবেক সাংসদ লায়লা পারভিন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানোর ব্যাপারে বাদির মতামত নিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বাদিকে মামলা করার ব্যাপারে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তবে সোমবার ওই আসামীর জামিন আবেদন না’মঞ্জুর হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেন।

সাতক্ষীরা কারাগারের জেলর মোঃ মনির হোসেন জানান, আজই আলোচনা করে লায়লা পারভীন সেঁজুতির হাইকোর্টের জামিন সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

(আরকে/এসপি/জুন ২৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৯ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test