E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালতে ঘুরছেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সামছুল কবীর

২০২৬ জুন ৩০ ১৮:২৫:০১
রায় পাওয়ার পরও জমির দখল পেতে আদালতে ঘুরছেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সামছুল কবীর

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ওয়ারেশ ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির নামপত্তন ও খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দপুরের অবঃ ব্যাংক কর্মকর্তা ৮০ বছরের বৃদ্ধ একেএম সামছুল কবীর। রেকর্ড সংশোধনের মামলার রায় তার পক্ষে যাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমির দখল বুঝে না পেয়ে আদালতপাড়ায় সময় কাটছে  তার। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে এমনই হাতাশা ব্যক্ত করেন সামছুল কবীর।

কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের সামছুল রহমানের ছেলে একেএম শামছুল কবীর জানান, ২০০৭ সালে তিনি পূবালী ব্যাংকের খুলনা প্রধান শাখার পিন্সিপ্যাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অবসরে যান তিনি। মুকুন্দপুর মৌজার আরএস -২৪ খতিয়ানের ৭১২ দাগে ওয়ারেশসূত্রে ৭ দশমিক ৩৩ শতক ও ১৯৭৯ সালের ৬ জুলাই আবু বক্কর সরদারের কাছ থেকে চার শতক জমি কিনে মোট ১১ দশমিত ৩৩ শতক জমির নামপত্তন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ওই জমি ভুল করে একই গ্রামের আশরাফ আলীর নামে রেকর্ড হয়। রেকর্ড মূলে ওই জমি আশরাফ আলীর ওয়ারেশগণ গায়ের জোরে জবরদখল অব্যহত রাখায় তিনি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট আদালতে পিটিশন ৪৩৯/১৭ নং মামলা করেন। ২০১৯ সালের ২২ আগষ্ট বিচারক ওই জমি তাকে ভোগদখল করার জন্য নির্দেশনা দেন। এরপরও তিনি ওই জমির দখল না পাওয়ায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য সাতক্ষীরা ল্যাণ্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১৩৩১/২০ নং মামলা করেন। মামলায় আশরাফ আলীর ছেলে দাউদ আলী সরদারসহ ১০জনকে বিবাদী করা হয়। ওই আদালতের বিচারক মোঃ জাহিদুল আজাদ ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তার (শামছুল কবীর) পক্ষে রায় ও ২৪ সেপ্টেম্বর ডিক্রী দেন। আদেশে তার (শামছুল কবীর) নামে রেকর্ড প্রদান করে খতিয়ান সংশোধনের জন্য তৎকালিন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশনা দেওয়া হয়। বেগতিক বুঝে ল্যা- সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ মহামামন্য হাইকোর্টে ৪৭০৪/২৩ নং রিট পিটিশন দাখিল করে।

আদালত শুনানি শেষে সাতক্ষীরা ল্যাণ্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার জন্য বিবাদীপক্ষ দাউদ সরদার ও তার শরীকদের নির্দেশনা দেন। এরপর বিবাদীপক্ষ ল্যাণ্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালে ১১৫/২৪ নং আপিল মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তিনি (শামছুল কবীর) স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। আপিল মামলা পরবর্তী ২৪টি ধার্য দিনেও পড়লে আপিলকারি পক্ষ মামলা বিলম্বিত করতে কৌশলে সাক্ষ্য দিতে গড়িমসি করছেন। আগামি পহেলা জুলাই সাক্ষীর জন্য পরবতী দিন ধার্য রয়েছে। ফলে তিনি ল্যাণ্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে রায় পাওয়ার পরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জমি দখলে নিতে পারছেন না। প্রায় ৮০ বছর বয়সেও তিনি ন্যয় বিচারের মাধ্যমে জমির দখল পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জীবদ্দশায় ওই জমির দখল পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।

তবে এ ব্যাপারে মনিরুল সরদার সাংবাদিকদের বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. প্রণব সরকার বলেন, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি একেএম শামছুল কবীরের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আদালত দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক।

আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. পরিতোষ কুমার ঘোষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

(আরকে/এসপি/জুন ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test