E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

তদন্তের নির্দেশ

১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষক, তবুও এমপিও'র বেতন-ভাতা! 

২০২৬ জুলাই ০৯ ১৯:৩৬:২২
১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষক, তবুও এমপিও'র বেতন-ভাতা! 

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে প্রায় ১৭ বছর অনুপস্থিত থেকেও একজন শিক্ষক সরকারি এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পীযুষ কান্তি ঘোষ ২০০৬ সালে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি ঢাকায় অন্য পেশায় যোগ দেন এবং এরপর আর বিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি এমপিওভুক্ত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি বেতন-ভাতার অর্থ জমা হতে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪০১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও কম্পিউটার শিক্ষক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার শিক্ষা কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবও দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসেও পীযুষ কান্তি ঘোষের ব্যাংক হিসাবে সরকারি অর্থ জমা হয়েছে। এ সময় তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এমপিওভুক্ত রাখা এবং বেতন উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশ থাকতে পারে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকাকালে তিনি পীযুষ কান্তির বেতন বন্ধ রাখেন। তবে ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, বিভিন্ন সময়ে পীযুষ কান্তিকে নোটিশ দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। আদালতের একটি আদেশ এবং তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর হিসাবে বেতন পাঠানো হয়েছিল। পরে আবার বেতন বন্ধ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক পীযুষ কান্তি ঘোষ দাবি করেন, তিনি ২০০৯ সালেই বিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দেন এবং এরপর আর সেখানে যাননি। তাঁর ভাষ্য, কীভাবে তাঁর হিসাবে সরকারি বেতনের অর্থ জমা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেছেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও কোনো শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলে তা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(আরএম/এসপি/জুলাই ০৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৯ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test