E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

শ্রেণিকক্ষে হাঁটু পানি, ৪ দিন বন্ধ পড়াশোনা 

২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:২০:০৯
শ্রেণিকক্ষে হাঁটু পানি, ৪ দিন বন্ধ পড়াশোনা 

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি জমে যায় টুঙ্গিপাড়ার বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। এতে বন্ধ থাকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে হয়েছে হাঁটু সমান পানি। তাই গত ৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ওই মাদ্রাসার ৩শ’৬০ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে পানি আটকে থাকায় বাড়ছে আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

মাদ্রাসা ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার একতলা ভবনেই চলে ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এরমধ্যে নূরানী বিভাগেই পড়াশোনা করে ২শ’ শিশু শিক্ষার্থী। আর দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী ও খুলনার ৩০ শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করে। প্রতিবছর কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে থৈ থৈ করে। আর্থিক সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। তাই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর।

মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে নূরানী বিভাগটি সবার আগে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানা সহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আর্থিক সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোন পথ তৈরি করতে পারছে না। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে এ সমস্যা দূর করার দাবি জানাচ্ছি।

২য় শ্রেনীর ছাত্রী হুজাইফা ইসলাম বলে, গত বছরের মতো এবারও আমাদের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। তাই শিক্ষকরা আমাদের ক্লাস নিতে পারছে না, আর আমরা খেলাধুলাও করতে পারছি না।

সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষ ও মাঠ তলিয়ে যায়। এই সময়টাতে নিরুপায় হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। কারণ জমে থাকা পানি বের করার কোন উপায় নেই। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল করতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি। তাই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। মাদ্রাসা ও এতিমখানাটিতে জমে থাকা পানি শীঘ্রই নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আগামীতে যাতে শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে পানি জমতে না পারে সেজন্য স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(টিবি/এসপি/জুলাই ১২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১২ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test