E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

 নড়াইলের ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়কই কাঁচা, বর্ষায় ভোগান্তি

২০২৬ জুলাই ১৪ ১৪:৫৬:৫৬
 নড়াইলের ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়কই কাঁচা, বর্ষায় ভোগান্তি

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। ২ কিলো মিটার গ্রামীণ সড়কে কাদা আর কাদা। মাঠের ফসলও ঘরে তুলতে কষ্টের শেষ নেই এ সব গ্রামের কৃষকদের। বর্ষাকালে সব ধরনের যান চলাচল একেবারেই বন্ধ। হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে আনতে গেলে তাদের জীবন অর্ধেক শেষ। সড়কটির এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটেছেন সরকারি দপ্তরে। কিন্তু কোন প্রতিকার মেলেনি।

গ্রামীণ সড়কটি নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের দূর্বাজুড়ি গ্রাম থেকে সীতারামপুর অভিমুখী। রাস্তার পাশে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের গ্রামীণ এ সড়ক নির্মাণের দাবি বহু আগে থেকেই। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও রাস্তায় কোন উন্নয়ন ছোঁয়া লাগেনি।

দূর্বাজুড়ি গ্রামের গোপাল বিশ্বাস বলেন, "আমাদের গ্রামে তিন থেকে চার বার এমপি এসেছে। এসে রাস্তা দেখে গেছে। তারা আশ্বস্ত করে যায় রাস্তা হবে। কিন্তু আর হয় না। আমাদের এক মন ধান হাটে নিতে হলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়। তা ও তারা আসে না। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামে ছেলে মেয়ের বিয়ে হয় না। আমরা চাই আমাদের এই রাস্তা দ্রুত পাকা হক।"

শুধু দূর্বাজুড়ি সীতারামপুরের হিজলডাঙ্গা, ইচড়বাহা সহ কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচল এ রাস্তায়।বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যায় গ্রামের রাস্তা। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে যেমন দুর্ভোগ, তেমনি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য।স্কুল - কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।

কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, "সমান্য বৃষ্টিতে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়।রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়ি পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তাটি পাকা করনে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।"

শুধু এই দুইটি গ্রামের সড়ক না। এরকম জেলায় তিনটি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশ এখনও কাঁচা রয়ে গেছে। যার কারনে বর্ষা মৌসুমে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় ওই সব গ্রামের বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধিনে থাকা ১ হাজার ৪ শত ৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২ শত ২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা।এর মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১ শত ৮১ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭শত ৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।

লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৯ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা ৭শত ৮৯ কিলোমিটার, এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ ।

কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা ৪৩৩ কিলো মিটার।এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৫৮ শতাংশ ।

এছাড়া এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডি ভূক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরও ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা সড়ক নতুন করে তালিকা ভূক্ত করার কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০% রাস্তা এখনও কাঁচা আছে। বর্তমান অর্থ বছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু রাস্তা সংস্কার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে।কিছু রাস্তা টেন্ডারে আছে। নড়াইল জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। এই প্রকল্প গুলো পাস হয়ে গেলে আগামী অর্থ বছরে কাঁচা এবং পাকা রাস্তা ৫০ শতাংশে আনতে পারবো।

(আরএম/এএস/জুলাই ১৪, ২০২৬)








পাঠকের মতামত:

১৪ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test