E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ফরিদপুরে মন্দিরের নামে জেলা পরিষদের জায়গা দখলের অভিযোগ

২০২৬ জুলাই ২০ ১৯:২২:৫০
ফরিদপুরে মন্দিরের নামে জেলা পরিষদের জায়গা দখলের অভিযোগ

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে মন্দিরের নামে জেলা পরিষদের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা জনৈক আরিফ শেখ এন্ড গংদের  বিরুদ্ধে৷ ৫ আগস্টের পরে ফরিদপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের হঠাৎ বিএনপি'র বড় নেতা বনে যাওয়া ওই বিএনপি নেতা ভুলভাল বুঝিয়ে জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ওই মন্দিরের পাকা ছাদ করতে আবার এনেছেন সরকারের টিআর এর নগদ অর্থ বরাদ্দও। সেই বরাদ্দ দিয়ে দেয়াল পূণ:নির্মাণ না করেই তার ওপরই নির্মাণ করছেন ছাদ। যা ঝুকিতে ফেলে দিয়েছে মন্দিরটিকেও।

আজ সোমবার সরেজমিনে মন্দির পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় স্থানীয়দের বাধার মুখে ওই মন্দিরটির ছাদ নির্মাণ বন্ধ রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মন্দিরের কমিটির অন্যতম নেতা পিন্টু দাস উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, আমরা এ ব্যাপারে স্থানীয়দের সাথে বসেছি, ফরিদপুর জেলা পরিষদের থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে এ মন্দিরের ছাদ নির্মাণ করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে আমরা চিন্তা করেছি অনুমতি নিয়েই করবো'।

এ বিষয়ে ওই মন্দিরের ছাদ নির্মাণকারী আরিফ শেখ জানান, আমরা স্থানীয় এমপি থেকে এ মন্দিরটির ছাদ নির্মাণে টিআর বরাদ্দ এনেছি। জেলা পরিষদের মৌখিক অনুমতি নিয়ে আমরা ছাদ নির্মাণ করতেছি। স্থানীয়রা বাধা দিলেও কোনো লাভ নাই। আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ছাদ নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করবো। এছাড়া, স্থানীয় মন্দির কমিটির সদস্যদের দিয়ে ইতিমধ্যে জেলা পরিষদে লিখিত দরখাস্ত করেছি'।

আরিফ আরও জানান, 'অনুমতি পেয়ে যাবো, যেহেতু অনুমতি পেতে দেরি হতে পারে, অপেক্ষা না করে ছাদ করে ফেলতে চাই। আমি এখানে আমার কোনো ঘর তৈরি করছি না, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মন্দির) তৈরি করছি। সুতরাং দখলের কথা ভিত্তিহীন'।

বিষয়ে ওই ওয়ার্ড বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান খান উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জেলা পরিষদের জায়গাটিতে মুলতঃ কানাইপুর কলেজ নামে একটি কলেজ ছিলো, যা আমাদের প্রিয় নেতা প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফ গড়ে তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে কলেজটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এখানে আগে থেকেই একটি কালি মন্দির রয়েছে। তারপরও আরেকটি মন্দির গড়ে তুলা হচ্ছে মুলতঃ যায়গা দখল করতেই'। তিনি আরও জানান, 'মন্দির করতে আপত্তি নেই, তবে নিয়ম মেনে করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা'।

এ বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি'র সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন জানান, মন্দিরটি যেভাবে করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ। টিআর টাকা দিয়ে টেকসই মন্দির করা যেতো। মন্দিরের টিন খুলে সরাসরি ছাদ নির্মাণ করা এলাকাবাসীর জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাবে। এছাড়া, জেলা পরিষদের অনুমতি ছাড়া, এখানে কেনো স্থায়ী ছাদ করে মন্দির করা হচ্ছে সেটির প্রশ্ন ডুলেছে এলাকাবাসী। ফরহাদ আরও জানান, এখানে আবারও কলেজ নির্মাণ করার কথা রয়েছে। মন্দির থাকলেও সমস্যা তাতে সমস্যা নেই তবে, তা যথাযত সরকারি অনুমতি সাপেক্ষে করাই উত্তম বলে মনে করছে স্থানীয়রা'।

বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আমার কাছে কোনো আবেদন করেননি। জেলা পরিষদের জমি হয়ে থাকলে এ বিষয়ে জেলা পরিষদ ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম সানজিদা সুলতানা জানান, 'বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই, পুরোপুরি জেনে পরে জানাতে পারবো'। তিনি আরও জানান, 'অনুমতি ছাড়া জেলা পরিষদের জায়গা দখল করার কোনো সুযোগ নেই'।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন এখানে কানাইপুর কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন মন্ত্রী প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা জটিলতায় এ কলেজটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে স্থানীয় বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসূফের নিকট দাবি জানিয়েছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এ কলেজটি পুনরায় নির্মাণের। তবে, কলেজ প্রতিষ্ঠার বহু আগে থেকে শত বছর পুরোনো একটি মন্দির এখানে ছিলো বলে জানিয়ে স্থানীয়রা। বর্তমান রেকর্ডে ৩ শতাংশের বেশি জমি ওই জায়গায় মন্দিরের নামে রয়েছে। এলাকাবাসীর কেউ কেউ মন্দির দু'টির বিপক্ষে নন, বরং যথাযত নিয়ম মেনে মন্দির নির্মাণের করার পক্ষে সবাই। সেই সাথে কলেজের বাকী জায়গায় পুনরায় 'কানাইপুর কলেজ' প্রতিষ্ঠারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

(আরআর/এসপি/জুলাই ২০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২১ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test