E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

অণ্ডকোষ চেপে বাবাকে হত্যা, কিশোর ছেলে পুলিশ হেফাজতে

২০২৬ জুলাই ২৭ ১৯:২৩:৩৭
অণ্ডকোষ চেপে বাবাকে হত্যা, কিশোর ছেলে পুলিশ হেফাজতে

তপু ঘোষাল, সাভার : ঢাকার সাভারে পারিবারিক কলহের জেরে মহিন মিয়া (৩৮) নামে এক দুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে জিসানকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে নেশা করা নিয়ে বিরোধ নাকি মোবাইল ফোনের চার্জার খোঁজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা-তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজ সোমবার ভোরে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ছাকিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিন মিয়া ওই এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে দুধ বিক্রির ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ছেলে জিসানের মাদকাসক্তি নিয়ে পরিবারে অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন ভোরে নেশা করা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত হয়ে জিসান বাবাকে মারধরের পাশাপাশি তার স্পর্শকাতর অঙ্গে (অণ্ডকোষ) জোরে চাপ দেয়। এতে মহিন মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। পুলিশ জানায়, ভোরের দিকে মহিন মিয়া ছেলের কক্ষে গিয়ে নিজের মোবাইল ফোনের চার্জার খুঁজছিলেন। চার্জার না পেয়ে তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে বকাঝকা করেন। এ সময় জিসান পাল্টা কথা বললে মহিন মিয়া তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে হাতে একটি টেস্টার নেন। পরে বাবা-ছেলের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জিসান তার বাবার স্পর্শকাতর অঙ্গে (অণ্ডকোষ) চাপ দিলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মহিন মিয়াকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কিশোর জিসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুর খান বলেন, অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ, কিশোরের আচরণগত সমস্যা, মাদকাসক্তির অভিযোগ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না- সব দিকই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মহিন মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

(জি/এসপি/জুলাই ২৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৭ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test