E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা খরচ বহন

দিনাজপুরে ক্লাসরুমে শিক্ষার্থী আহত ঘটনায় দোষী তিন শিক্ষার্থীকে এক মাস বহিষ্কার

২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:৪৪:১৩
দিনাজপুরে ক্লাসরুমে শিক্ষার্থী আহত ঘটনায় দোষী তিন শিক্ষার্থীকে এক মাস বহিষ্কার

শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ও ক্লাস ক্যাপ্টেন আতিক ইসলামের প্রহারের ঘটনায় অভিযুক্ত সহপাঠী তিন শিক্ষার্থীকে এক মাসের জন্য শ্রেণি পাঠদান থেকে বিরত ও আহত শিক্ষার্থী আতিকের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে ওই তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবক এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর জিলা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এক সভার সিদ্ধান্তে উভয়ের সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধানের পর পরই আহত শিক্ষার্থী আতিকের অভিভাবকের হাতে চিকিৎসা বাবদ ৯ হাজার টাকাও তুলে দেওয়া হয়।

দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগমের স্বাক্ষরিত সভার সিদ্ধান্তে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুর জিলা স্কুল এ ৫ম শ্রেণির দিবা শিফটের 'ঘ' শাখায় সহপাঠীর প্রহারে গুরুত্বর আহত হয়ে সঙ্গা হারায় শিক্ষার্থী ও ক্লাস ক্যাপ্টেন আতিক ইসলাম। আতিক মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।

আতিক দিনাজপুর জিলা স্কুল এ ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী । তার শিফট- দিবা, শাখা- ঘ রোল ১২ সে ক্লাস ক্যাপ্টেইন । বর্তমানে সে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগ রুম নং- ১ বেড নং--০৫ ৫ম তলায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ক্লাসে হৈ-হুল্লোর করায় ক্লাস টিচার নারায়ণীর ক্লাসে খাতা দেখতে অসুবিধা হওয়ায় ক্লাস ক্যাপ্টেন আতিককে হৈ-হুল্লোর ও বিশৃঙ্খলাকারিদের নাম লিখে দিতে বলেছিলেন। আতিক দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু স্কুল বিরতির সময় শিক্ষকের কাছে নাম লিখে দেওয়ার অজুহাতে আতিককে প্রহার করেছে তার সহপাঠীরা। ঘটনা জানার পর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহত শিক্ষার্থী আতিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দোষি শিক্ষার্থীরা হলো

তাকে প্রহার করেছে শাফায়াত অহি (রোল- ৩৭), মো.তাহসিন ইসলাম বর্ণ ( রোল- ১০) ও নাসিফ ফাদ্বীন খান, (রোল- ৮)। তাদের এক মাসের জন্য শ্রেণি পাঠদান থেকে বিরত ও আহত শিক্ষার্থী আতিকের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে ওই তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবক। স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আহত শিক্ষার্থী আতিক ইসলামের অভিভাবকেরা।

আহত আতিকের পিতা মোহাইমিনুল ইসলাম শিশুদের ভালো রাখা ও জীবন গড়ার দায়িত্ব অভিভাবকের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও নেওয়া প্রয়োজন। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের প্রতি নজর রাখা। খারাপ কাজ থেকে যাতে বিরত থাকে যে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। আমার সন্তান আজ আহত হয়েছে, কাল অন্য কারো সন্তানও আহত হতে পারে। এজন্য দোষিদের শাস্তির ব্যবস্থার এ সব খারাপ কাজ ও হিংস্রতা থেকে বিরত রাখতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তিন শিক্ষার্থীকে এক মাসের জন্য স্কুলে পাঠদান থেকে বিরত রেখে ভালো থাকার আল্টিমেটাম দিয়েছে।

(এসএস/এসপি/জুলাই ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test