E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ফরিদপুরে গভীর রাতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ঘরের জানালা ভেঙে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

২০২৬ আগস্ট ০১ ১৮:০৯:১৬
ফরিদপুরে গভীর রাতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ঘরের জানালা ভেঙে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুরে গভীর রাতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ঘরের জানালা ভেঙে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬) নামের দুই কিশোর-তরুনকে মোটরসাইকেলসহ ধরে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী মেয়েটির চাচা জানান, তাঁর মায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ফরিদপুরে যান। সঙ্গে তাঁর ভাবীও (মেয়েটির মা) ছিলেন। বাড়িতে তাঁর অল্পবয়সী তিন ভাতিজা-ভাতিজি ছিলো। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ৮-১০ কিশোর-তরুণ তাদের ঘরের চারপাশে অবস্থান নেয়। তারা দরজা খোলার জন্য ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। ভেতর থেকে দরজা খুলতে রাজি না হওয়ায় দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে। এ সময় তারা তাঁর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ভাতিজিকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।

স্বজন ও প্রতিবেশীরা দুর্বৃত্তদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে হামলার হুমকি দিয়ে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে মেয়েটিকে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানকার একটি পুকুরের পাড়ে ৫ থেকে ৭ জন যুবক ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটি। ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর দুর্বৃত্তরা রাত ৩টার দিকে কিশোরীকে বাড়ির পাশে ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী দলবেঁধে তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেলসহ দুজনকে আটক করা হয়। তাদের পিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখি।’ তিনি এ ঘটনার পর থেকে কথা বলার অবস্থায় নেই।

ওই কিশোরীর ছোট বোন জানায়, দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা বোনের চুলের মুঠি ধরে বের করে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসী যে দুজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে, তারা থানায় আছে।

আজ শনিবার সকালে এ বিষয়ে ফরিদপুরের সদরপুর থানার (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'এঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদি হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা (মামলা নং ১, তারিখ: ৩১ জুলাই '২০২৬ ইং) দায়ের করেছেন। যাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী ৫ জনকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

(আরআর/এসপি/আগস্ট ০১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০১ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test