E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কাপ্তাইয়ে সংরক্ষিত বনে বহুতল ভবন নির্মাণে বন বিভাগের বাধা

২০২৬ আগস্ট ০১ ১৮:৪৮:০১
কাপ্তাইয়ে সংরক্ষিত বনে বহুতল ভবন নির্মাণে বন বিভাগের বাধা

রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : কাপ্তাইয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীতা পাহাড়ে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজে বন বিভাগ বাধা দেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং অবৈধ কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ফায়দা লুটার উদ্দেশ্যে এই মহলটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বন বিভাগ অভিযোগ করেছে।

কাপ্তাই বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন কাপ্তাই বন রেঞ্জের রামপাহাড় বন বিটের সীতা পাহাড় ব্লকের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি বহুতল (৩ তলা) ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে কাপ্তাই বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের তৎকালীন ডিএফও অসিত রঞ্জন পালের দায়িত্বে থাকাকালে ধ্যানের জন্য সীতা পাহাড়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান স্থানটি এশিয়ান হাতির প্রধান আবাসস্থল। লোকালয় থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সীতা পাহাড় এলাকাটি বন্যহাতির পাল নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, এমন একটি সংবেদনশীল ও সংরক্ষিত এলাকায় নতুন করে কোনো বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কাপ্তাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জামাল হোসেন তালুকদার বলেন, "অবৈধভাবে হাতির আবাসস্থলে নতুন স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বন আইন অনুযায়ী অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করায় একটি সুবিধাভোগী চক্র বিষয়টি নিয়ে অপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।"

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, মন্দিরটি জাঁকজমকপূর্ণ করতে এবং পূজারীসহ লোকসমাগম বাড়াতে সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে রাঙামাটি জেলা পরিষদ থেকে সীতা পাহাড় মন্দির প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২২ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ ১৯২৭ সালের বন আইনের ২৬ নম্বর ধারার ১(ক), (ঘ) এবং ১ক(ঙ)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া জাতীয় বননীতি ২০২৫-এর ১(৫) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, "বনবিরুদ্ধ বা বনবহির্ভূত কাজে প্রাকৃতিক বনভূমির ব্যবহার বন্ধ করা হবে।"

বন কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন, আইন প্রণয়নকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সরকারি বিভাগসমূহ কীভাবে সংরক্ষিত বনের ভেতর এ ধরনের প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ ও উদ্বোধন করেন, যা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের স্বার্থহানি ঘটাচ্ছে।

বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘটনা দেরিতে নজরে আসে। তবে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন বিভাগ কঠোর অবস্থান নেয় এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। এর আগে ২০২৫ সালে কাপ্তাই রেঞ্জের শুকনোছড়ি বিটে একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় উপাসনালয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় বন বিভাগকে অনেক সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। বনভূমি সুরক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যত্রতত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে সচেতনমহল মনে করছে।

(আরএম/এসপি/আগস্ট ০১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০১ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test