E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‌আশাশুনির নাকতাড়া কালীমন্দিরের পুকুরঘাটে নবনির্মিত ঘর ভাঙচুর

২০২৬ আগস্ট ০৪ ১৮:৪১:৩৯
‌আশাশুনির নাকতাড়া কালীমন্দিরের পুকুরঘাটে নবনির্মিত ঘর ভাঙচুর

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নাকতাড়া কালীমন্দিরের পুকুরঘাটে নবনির্মিত একটি ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলের দিকে শ্রীউলা গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মীর ভাড়াটিয়া চা ব্যবসায়ি ইমরানের নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

নাকতাড়া কালীবাড়ি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, নাকতাড়া কালী মন্দিরের নামে ১৪ শতক দেবত্ব সম্পত্তি ছাড়াও স্থানীয়দের দেওয়া পুকুরের ৫৯ শতক ও ৫৫ শতক ডাঙা জমি মন্দিরের নামে বর্তমানে রেকর্ড রয়েছে। শ্রীউলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনা শাকিলের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী শ্রীউলার আবুল হোসেন ঘোলা-আশাশুনি সড়কের কালীমন্দির সংলগ্ন কিছু জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে ইমরান হোসেন ও মনিকে ভাড়া দেন। ইমরান চায়ের দোকান ও মনি মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান পরিচালনা করে আসছে। তবে কয়েক বছর আগে আবু হেনা শাকিলের সহযোগিতায় মন্দিরের জমিতে বানানো ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল গ্যারেজটি ভাঙা সম্ভব হলেও আবুল হোসেনের ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে মন্দির কর্তৃপক্ষের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেওয়া হতো।

আশাশুনির নাকতাড়া কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বজল কুমার মিত্র জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী কালীমন্দিরের প্রধান ফটক ও পুকুর ঘাট ভাঙচুর করে একটি বিশেষ মহল। স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাড. নুুরুল আমিন ও সরকারী কৌশুলী অসীম কুমার মণ্ডলের সহযোগিতায় ওই পুকুরঘাট আবারো সংস্কার করা হয়। গত চৈত্র মাসে ওই পুকুর এসকেবেটর মেশিন দিয়ে খনন করার সময় পুকরঘাটটি আবারো ভেঙে যায়। নারীদের স্নানের সুবিধার্থে গতকাল সোমবার বিকেলে একটি নতুন ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করে তারা যার যার মত বাড়ি চলে যান। বিকেল মাড়ে ৫টার দিকে চায়ের দোকানদার ইমরান দোকান মালিক দাবিদার আবুল হোসেনের নির্দেশে ৮/১০ জন লোক নিয়ে নবনির্মিত ওই ঘরের এসবেস্টার্স ও প্রাচীর ভাংচুর চালায়। বিষয়টি নাকতাড়া বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশকে অবহিত করা হয়। সন্ধ্যায় আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক সেলিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মন্দিরে এলে ইমরান পালিয়ে যায়। পুলিশের নির্দেশনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন মঙ্গলবারের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। মঙ্গলবারের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে বুধবার তারা থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন।

এ ব্যাপারে আবুল হোসেনের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাড়াটিয়া ইমরান সাংবাদিকদের জানান,পুকুরঘাটে যেখানে নতুন ঘর বানানো হয়েছে তা মন্দিরের রেকডীয় হলেও মালিক আবুল হোসেনের দখলে ছিল। তাই আবুল হোসেনের নির্দেশে তিনি লোকজন নিয়ে ঘর ভেঙে দিয়েছেন।

শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও নাকতাড়া কালীবাড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খান মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ও লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

(আরকে/এসপি/আগস্ট ০৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৪ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test