E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সোনাতলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৮:১৫:০২
সোনাতলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত সুপারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা। এতে শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক তদারকি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় মাধ্যমিক ২৪টি (এমপি ভুক্ত), ভোকেশনাল ৬টি,সাধারণ কলেজ ৬টি ও মাদ্রাসা ৯টি রয়েছে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান চলছে সোনাতলা সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হরিখালী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, আদর্শ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, ফজিলা শরীফ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, হুয়াকুয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কর্পূর দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়, এনায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, শালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সোনাতলা মহিলা কলেজ সহ মোট ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে সোনাতলা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাগজে-কলমে কর্মরত থাকলেও তাকে বিদ্যালয়ে খুব একটা দেখা যায়না বলে স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসও বিব্রতকর বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের এক থেকে দুই ঘণ্টা পরে বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিতির খাতায় যথাসময়ের উপস্থিতি হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া পাঠদান চলাকালে কিছু শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যান না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধানরা প্রশাসনিক ভাবে অনেক সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ফলে কিছু শিক্ষক তাদের নির্দেশনা যথাযথ ভাবে অনুসরণো করেন না।

কর্পূর দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাঃ তহসিনা সুলতানা বলেন, আমি ২০২২ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান না থাকার বিষয়ে লিখিত ভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সেভাবে জানাইনি তবে মৌখিক ভাবে তারা জানেন।

ফজিলা শরীফ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০২০ সাল থেকে অদ্যাবধি ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

সোনাতলা সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শাহাদুজ্জান বলেন, ২০২৪ সালের শেষের দিক থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সরকার দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেবে বলে আশা করছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) শেখ নাজমুল ইসলাম বলেন, আমিও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। ভারপ্রাপ্ত প্রধানের মাধ্যমে পরিচালিত সব প্রতিষ্ঠানের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কোনো শিক্ষক নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী বলেন, অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন, কিছু শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্থায়ীভাবে না থাকায় তদারকিতে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছি সকাল ১০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান গুলোতে দ্রুত প্রধান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।যাতে করে দ্রুত ওই সব প্রতিষ্ঠানে প্রধান গনেরা যোগদান করেন।

(বিএস/এসপি/আগস্ট ০৮, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৮ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test