E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী 

২০২৬ আগস্ট ১১ ১৮:১৯:৪৫
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী 

মাদারীপুর প্রতিনিধি : ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী। দিনরাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বেড়েছে চরম ভোগান্তি। সাধারণ মানুষসহ বেশি দুর্ভোগে পড়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ঠিকমত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেকের।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের শহর থেকে গ্রাম সবখানেই ঘন ঘন লোডশেডিং এর জন্য ভোগান্তিতে পড়েছে সবাই। মাদারীাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদেরও একই অবস্থা। এদিকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রেখে অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষজনও ভোগান্তিতে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুত প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট।

অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। অথচ এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ১৪টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ।

শহরের পুরানবাজার এলাকার গোল্ডেন সাইন প্রিন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক সোহাগ হাসান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা কোন কাজেই করতে পারছি না। অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যার্নার করতে দিয়েছেন, তাও প্রিন্ট দিতে পারছিনা। আমাদের পুরো কাজটাই বিদ্যুৎ না হলে করা যায়না। এদিকে কাস্টমার তা বুঝতে চায় না। কাজ সময়মতো দিতে না পারায় কাস্টমার বিরক্ত হচ্ছে। আমরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

মাদারীপুর শহরের শকুনি এলাকার আল বারাকাহ ট্রেইলার্সের মালিক শিশির হাসান নাঈম বলেন, আমার দোকানে ৪ জন কর্মচারী কাজ করে। সেলাই মেশিনগুলো বিদ্যুৎ না হলে চালানো যায় না। বিদ্যুৎ ঠিকমতো না পাওয়ায় কর্মচারীগুলো অলস সময় কাটায়। এদিকে কাস্টমারদের সময়মতো ডেলিভারী দিতে না পারলে,রাগ করেন। এই অবস্থায় টিকে থাকায় কঠিন হয়ে পড়েছে।

শহরের আমিরাবাদ এলাকার গৃহবধু লামইয়া বেগম বলেন, ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গরমের মধ্যে রান্না করতে আমাদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সারাদিন গরমের মধ্যে সংসারের কাজ করতে হচ্ছে। পরিবারের ছোট ছোট শিশু আর বৃদ্ধদের কষ্ট বেশি হচ্ছে।

মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল মেনাজোর (ডিজিএম, কারিগরি) অসিত সাহা বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সরবরাহও কম হচ্ছে। তাই আমাদের কিছুই করার নেই।

ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, দিনরাত মিলিয়ে চাহিদার তুলনায় ৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান মিলবে।

(এএসএ/এসপি/আগস্ট ১১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১১ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test