E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ক্ষুদ্ধ সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন মহল 

নড়াইলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের তিন মাস পর পিআইও অফিসের অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান

২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:০৪:১০
নড়াইলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের তিন মাস পর পিআইও অফিসের অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান

রূপক মুখার্জি, নড়াইল : তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার থাকলেও নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে প্রায় তিন মাসেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাননি সাংবাদিকেরা। দীর্ঘ সময় পর সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নথির ঘাটতি। এতে করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্হানীয় সাংবাদিকসহ সচেতনমহলে। 

সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৮মে লোহাগড়া উপজেলা পিআইও কার্যালয়ে ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া টিআর, কাবিখা, কাবিটা, জিআর ও খাল খনন প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়।

তবে আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যালয় থেকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারী সাংবাদিকরা।

তাদের অভিযোগ, প্রথম পর্যায়ে তথ্য অধিকার আইনের আবেদন ফরম গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনীহা এবং তালবাহানা শুরু করেন।

পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর লোহাগড়া পিআইও কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. অলিউল্লাহ তথ্য অধিকার আইনের আবেদনটি গ্রহণ করেন। এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পাওয়ায় সাংবাদিকেরা একাধিকবার ওই কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করলেও তিনি সময়ক্ষেপন করেন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিবারই তাদের বিভিন্ন ধরনের টালবাহানার মুখে পড়তে হয়েছে। একপর্যায়ে প্রকৌশলী মো. অলিউল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এমনকি সংসদ সদস্যের বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য নিতে হলে সংসদ সদস্যের অনুমতি প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।

এ সময় সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, তথ্য অধিকার আইনে প্রায় তিন মাস আগে আবেদন করা হয়েছে, তাহলে এখন কেন সংসদ সদস্যের অনুমতির প্রয়োজন হবে ? এ ধরনের কোনো বিধান কোন আইনে রয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চান তারা। তবে এরপরেও তথ্য দিতে বিলম্ব করা হয় বলে আবেদনকারী সাংবাদিকদের অভিযোগ।

তথ্য অধিকার আইনে তথ্য না পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা চলতি সপ্তাহে বিষয়টি লোহাগড়ার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মুস্তাফিজুর রহমানকে অবহিত করেন।
ইউএনও বিষয়টি জানার পর তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও পিআইও কার্যালয় থেকে তাদের চাওয়া সব তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে আংশিক কিছু তথ্য ও নথি সরবরাহ করা হয়।

সরবরাহ করা নথি পর্যালোচনা করে সাংবাদিকেরা দাবি করেন, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, মূল বরাদ্দ, বরাদ্দের খাত, প্রকল্পভিত্তিক অর্থের পরিমাণ ও সুবিধাভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেখানে নেই। ফলে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ চিত্র যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, আবেদনকারীর চাহিদা অনুযায়ী তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করার বিধান রয়েছে। তথ্য দিতে অপারগ হলে তার কারণও আবেদনকারীকে জানানোর কথা। ফলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর প্রায় তিন মাস সময় পার হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা কিংবা দিতে বিলম্ব করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাদের আশঙ্কা, প্রকল্পগুলোর অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম থাকলে তা আড়াল করতেই তথ্য দিতে দীর্ঘসূত্রতা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে অধিকাংশ সাংবাদিকদের মতামত।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, তথ্য অধিকার আইন সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যই প্রণীত হয়েছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী তথ্য চাওয়ার পরেও যদি আবেদনকারীকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ নথি দেওয়া হয়, তাহলে তা তথ্য অধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

(আরএম/এসপি/আগস্ট ২০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২০ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test