E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কলকাতার হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাজু ও রেবতীর মৃত্যু

২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:৩৩:৩৮
কলকাতার হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাজু ও রেবতীর মৃত্যু

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ভারতে চিকিৎসা নিতে যেয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেটের মীর্জা গ্যালিব স্ট্রীটের “হোটেল তাইবা ইন্টারন্যাশনাল” এ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে আলিমুজ্জামান সাজু ও পার্শ্ববর্তী তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকার। বুধবার রাত ১০টার দিকে বাড়িতে এ খবর পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আলিমুজ্জামান সাজু কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

বরেয়া গ্রামের সাহেব আলী সরদার জানান, তারা চার ভাইয়ের মধ্যে ঘের ব্যবসায়ি আলিমুজ্জামান সাজু(৪৮) সকলের ছোট। সেঝ ভাই মাহামুদুন্নবী দীপু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে বসবাস করে। মেঝ ভাই রাজু সরদার তিন বছর আগে, বাবা ইউনুস আলী সরদার আট বছর আগে ও মা আম্বিয়া খাতুন দুই বছর আগে মারা যান। আলিমুজ্জামান সাজু বিয়ে করেননি। স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে বাড়ি বানিয়ে একাই থাকতো সে। ৫/৬ দিন আগে সাজু কোমরের চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। মঙ্গলবার ব্যাঙ্গালোর থেকে কলকাতার একটি হোটেলে অবস্থান করছিল। সেখানে বুধবার অগ্নিকাণ্ডে সাজু মারা যায়। সাজুর মৃত্যুর খবর পেয়ে বিষয়টি কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনারের সঙ্গে হট লাইনে কথা বলেছেন।

বরেয়া মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকার, ও বরেয়া গ্রামের সেলিম হোসেন জানান, সাজু বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় তার অনেক অবদান রয়েছে।
তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকার জানান, তার ছেলে অনিক সরকার ও মেয়ে তৃষা সরকার দুই মাস আগে মা রেবতী সরকারের(৩৮) সাথে ভারতের নৈনিতালে চলে যায়। কয়েকদিন পর দেশে ফিরে আসে সে। রেবতী গত ১২ আগষ্ট আবারো ভারতে যায়। সেখানে ডাক্তার দেখানোর পর মঙ্গলবার কলকাতার একটি হোটেলে অবস্থান করছিল। বুধবার ওই হোটেলের চারতলায় আগুণ লাগে। এতে রেবতী মারা যায়।

প্রতিবেশী অঞ্জলী মণ্ডল ও অলকা কর্মকার জানান, রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার কাজী আলাউদ্দিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর কয়েক মাস বসে ছিল। একইভাবে তার বোন তৃষা সরকার একই কলেজ থেকে ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করছিল। রেবতী দুই মাস আগে তাদেরকে ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থানরত তার শ্বশুর অধীর সরকার ও শাশুড়ি টেপি সরকারের কাছে রেখে আসেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, রেবতীর সাথে সাজুর বেশ কিছুদিন যাবৎ সুসম্পর্ক চলে আসছিল। সাজুর চিকিৎসার সুবাদে রেবতী মাঝে মাঝেই খুলনা, ঢাকা, কলকাতা ও ব্যাঙ্গালোরে আইয়ুব আলীর বাসায় অবস্থান করতো। এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তি ছিল দিনমজুর স্বামীর সাথে। বিষয়টি ভাল চোখে দেখতেন না প্রতিবেশি ও স্বজনরা।

কলকাতার মুকুন্দপুর টেগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া সাজুর ভাগ্নিজামাই বেল্লাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে ওই হোটেলের তৃতীয় থেকে ৫ম তলায় আগুন লাগে। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালের মর্গে সাজু ও রেবতীসহ নিহত সকলের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। লাশ দেশে দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ব্যাঙ্গালোরে অবস্থানকারি আইয়ুব আলী জানান, মঙ্গলবার সকালে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে সাজু ও রেবতী কলকাতায় চলে যায়।

দুর্ঘটনা কবলিত হোটেল তাইবা ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক কুমারেশ জৈন জানান, মঙ্গলবার থেকে রেবতী ও সাজু একই কক্ষে অবস্থান করছিল। রেবতী নিজেকে সাজুর এটেনডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর হোসেন জানান, গণমাধ্যমে খোঁজ নিয়ে তারা এলাকায় লোক পাঠিয়ে জানতে পারেন যে, দুইজন মারা গেছে। নিহত রেবতী ও সাজুর লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চলছে।

(আরকে/এসপি/আগস্ট ২০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২০ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test