মহম্মদপুরে মধুমতির তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ও আবাদি জমি
বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিতে পানি বাড়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙনের তীব্রতা। একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদী পাড়ের শতশত পরিবার।
গৃহহীন হয়ে অনেকের ঠাঁই হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে, আর ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী অন্তত ২০-টি গ্রামের মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মতে, ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ শুষ্ক মৌসুমে নদী থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন।
স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের এই কর্মকাণ্ডের খেসারত দিতে হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে রৌদ্র-দীপ্ত মধুমতি নদী রাক্ষুসে রূপ ধারণ করে গিলে খাচ্ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতবাড়ি।
বর্ষা মৌসুমে মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধি পায়, এর ফলে ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে উপজেলার উত্তরে চরসেলামতপুর থেকে শুরু করে দক্ষিণে কালিশংকরপুর পর্যন্ত বিশাল এলাকা রয়েছে তীব্র ভাঙনের মুখে।
আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গোপালনগর, মহেষপুর, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা, চরঝামা, আড়মাঝি, যশোবন্তপুর, চরপাচুড়িয়া, রায়পুর, মুরাইল, ধুপুড়িয়া, জাঙ্গালিয়া, রুইজানি, কাশিপুর, ধুলজুড়ি, দ্বিগমাঝি, দেউলি ও ভোলানাথপুরসহ প্রায়-২০টি গ্রামের শতশত পরিবর।
ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ঈদগাহ, মন্দির, স্থানীয় দোকানপাট ও বাজার। বছরের অন্য সময় নদী পাড়ের মানুষ শান্তিতে থাকলেও বর্ষা মৌসুমে কষ্ট আর ভয়ে সময় যেন যেতে চায়না তাদের। ভয়ে ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটে মধুমতি পাড়ের মানুষগুলোর।
জানা যায়, মধুমতি নদী ভাঙনের খবর পেয়ে গত ১৯ আগস্ট নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী। এ সময় তিনি ৩০০ মিটার জিওব্যাগ ডাম্পিং এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন স্থানীয়দের।
তবে স্থানীয়দের ধারণা নদী ভাঙনের এই তীব্রতার জন্য দায়ি বালি উত্তোলণ। শুষ্ক মৌসুমে মধুমতি নদী থেকে বালি উত্তোলন করে কিছু বালি ব্যবসায়িরা। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ আকার ধারণ করে মধুমতি নদী। রাক্ষুসী রুপে প্রতিবছরই গিলে খায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি, গাছপালা ও ঘরবাড়ীসহ লোকালয়।
সরেজমিনে গেলে এমনিভাবে কষ্টের সাথে মনে কথাগুলো বলেন নদীপাড়ের অসহায় মানুষগুলো।
ভাঙন এলাকায় গেলে দেখা যায়, নদী পাড়ে বসে আছে লোকজন, তাদের কপালে দূশ্চিন্তার ভাঁজ। এবছরের ভাঙনে কি করবে ভেবেই পাচ্ছে না। ১০ থেকে ১২ একর জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাঁচবার বাড়ি সরাতে হয়েছে।
এ বছরও ভাঙন আশঙ্কায় পাশের জমিতে সাময়িকভাবে ঘর তুলে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বলে জানান, উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের তহিদুল ইসলাম লিপন ও তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানা।
হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের স্বামীহারা নুর নাহার বলেন, বর্ষা মৌসুম আসলেই আমাদের চিন্তার শেষ থাকেনা, চারবার বাড়ি সরিয়েছি। ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা।
ভ্যান চালক মোঃ ইনামুল শেখ বলেন, তিনবার বাড়ি ভিটা নদীগর্ভে যাওয়ার পর নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় এখন অন্যের বাড়ীতে ভাড়া থাকি। ভ্যান চালিয়ে টেনেটুনে চলছে সংসার।
তবে এ বছরেও এলাকার অনেক বসতভিটা ও ফসলি জমি মধুমতি নদী ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই কেবল সাময়িক জিওব্যাগ ডাম্পিং নয়, নদী ভাঙন রোধে এবং ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে অবিলম্বে টেকসই ও স্থায়ী নদীশাসন বাঁধ নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছ ভুক্তভোগী ও এলাকার সচেতন মহল।
(বিএস/এসপি/আগস্ট ২৬, ২০২৬)
পাঠকের মতামত:
- টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট
- ভারতের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে বাংলাদেশ, দাবি দিলীপ ঘোষের
- বিশ্বকাপে আয়ের হিসাব গোপন রেখে বিতর্কে ইনফান্তিনো
- ফরিদপুর মেডিকেলে দুদকের অভিযানে কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য
- ‘অন্যের ঈমান ও নিয়তের বিচারক আপনি নন’
- ‘এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা জড়িত, কারসাজি মেনে নেবো না’
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিতে একমত, পূর্ণাঙ্গ সমর্থনে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক
- ব্লু কার্বনে বড় সম্ভাবনা বাংলাদেশের
- স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, প্রথম শ্রেণিতে লটারি
- ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়িয়ে তিন বছর করার পরিকল্পনা’
- নতুন বিধি করে চাকরিতে পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না
- ‘১৮ বছরে রেলে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই’
- মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর পরশুরাম ঘাঁটি আক্রমণ করে
- দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী দুদকের অভিযান
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সরাসরি দেখাবে টফি
- প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করে তোলা জরুরি
- চাটমোহরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
- ‘বাল্য বিয়ে বর্তমানে সমাজে একটি ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে’
- কাপ্তাইয়ে প্রাথমিকে ১০ শিক্ষক ও ১ কর্মচারীর আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা
- চাটমোহরে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি
- পূজা উপলক্ষে আকর্ষণীয় অফার নিয়ে এলো শাওমি
- হাসপাতালে ভর্তি করাতে ও মামলা না করতে নানা ধরণের চাপ
- তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবিগঞ্জ ও ফেনীতে ব্র্যাক ব্যাংকের মতবিনিময়
- ‘অনুষ্ঠান আসলেই একটা গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা ঘটাতে চেষ্টা করে’
- রাজবাড়ীর পাংশায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ও প্রশমন দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা মহড়া ও আলোচনা
- ফানুস উৎসব থেকে বলছি
- ঝালকাঠিতে অগ্নিকাণ্ডে তিন বসতঘর ভস্মীভূত, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি
- মান্দায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭
- 'তোমার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম যে ব্যক্তিটি খুনি মোশতাককে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তিনি মাওলানা হামিদ খান ভাসানী, যাকে তুমি পিতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে'
- ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
- ঝালকাঠির মিরাজুলের কৃতিত্ব
- সুপ্রীম কোর্ট’র আপিল বিভাগের এডভোকেট আরিফ মন্ডলকে সংবর্ধনা
- ভৈরব পৌরসভার আয়োজনে নাগরিক সুবিধার্থে এই প্রথম ভিন্নধর্মী মেলা
- রায়পুরে তাঁতী লীগের আহ্বায়ক কমিটি
- কয়লা চোরাচালান মামলায় তাহিরপুর সীমান্তে গ্রেফতার ২
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- চুয়াডাঙ্গার গাছে গাছে আমের মুকুল, কাঙ্খিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা
- আবদুল হামিদ মাহবুব-এর একগুচ্ছ ছড়া
- নানা সংকটে নড়াইলের বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর
- যশোরে জুলাইযোদ্ধা, যুবদল নেতাসহ আটক ৪, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
- ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষারের বই ‘বাংলাদেশ আফটার এ গোরি ডন’ প্রকাশিত
- উদ্যোক্তা অভিজ্ঞতা, কৌশলগত অনুসন্ধান ও নীতি-বিশ্লেষণকে যেভাবে একসূত্রে যুক্ত করছেন মো. ইমদাদুল হক সোহাগ
- ৭১’র যুদ্ধদিনে আমার বাবা গুলিবিদ্ধ
- ব্লু কার্বনে বড় সম্ভাবনা বাংলাদেশের
- 'নির্লজ্জ বেহায়া হতেই কী আমরা তোমাকে খুন করেছি কিংবা তোমাকে রক্ষা করিনি?'
১৪ অক্টোবর ২০২৬
- টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট
- ফরিদপুর মেডিকেলে দুদকের অভিযানে কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য
- ‘১৮ বছরে রেলে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই’
-1.gif)








