E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সাতক্ষীরার খেলারডাঙীর কোহিনুর হত্যা

সন্দিগ্ধ হত্যাকারীকে ছেড়ে দিতে বাদিকে তদন্তকারি কর্মকর্তার নির্দেশ!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৭:৪৪:৫৫
সন্দিগ্ধ হত্যাকারীকে ছেড়ে দিতে বাদিকে তদন্তকারি কর্মকর্তার নির্দেশ!

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা শহরতলীর তালতলা এলাকার বিসমিল্লাহ ফুড্স এর কর্মচারি কোহিনুর খাতুনকে হত্যার ঘটনায় সন্দিগ্ধ আসামী মঞ্জুয়ারা খাতুনকে আটক না রেখে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মঞ্জুয়ারা তার ছেলে, মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে নিহতের বাড়িতে যেয়ে মামলা মিটিয়ে নিতে বলার জন্য বাদি ইমরানের বাড়িতে যান।

খেলারডাঙী গ্রামের ইমরান হোসেন জানান, তার বোন কোহিনুরকে সোমবার রাতে তালতলা বিসমিল্লাহ ফুডস থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করার জন্য তালতলা এলাকার জনৈক আব্দুল খালেকের পানিবন্ধি জমিতে ফেলে রাখা হয়। পরে তারা জানতে পারেন যে, কারখানা মালিক আব্দুস সোবহানের সঙ্গে কোহিনুরের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে কোহিনুরকে কয়েকবার মারপিট করে সোবহানের স্ত্রী ঋশিল্পীর ওয়াটার প্লান্টে কর্মরত মঞ্জুয়ারা বেগম। ফলে কোহিনুর হত্যার সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন। কোহিনুর হত্যার ঘটনায় পুলিশ কারখানা মালিক আব্দুস সোবহানকে গ্রেপ্তার কওে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করে।

ইমরান হোসেন আরো জানান, মঞ্জুয়ারাকে গ্রেপ্তার করলে কোহিনুর হত্যা মামলার ক্লু উদ্ধার হতে পারে বলে তারা বারবার মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেন ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মোঃ মাহামুদুর রহমানকে বলেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মঞ্জুয়ারা তার ছেলের মটর সাইকেলে করে ও মেয়ে সাদিয়া বিনতে সোবহান, জামাতা আবু তালেব পৃথক মোটর সাইকেলে করে তাদের বাড়িতে আসেন। সমঝোতার ভিত্তিতে মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন মঞ্জুয়ারা। এতে তিনি (ইমরান) ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে স্থানীয় লোকজনদেও দিয়ে ঘিরে রেখে এক সাংবাদিককে দিয়ে থানায় খবর দেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদুর রহমান জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনকে পাঠাচ্ছেন বলে জানান। এর পরপরই শাহাদাৎ হোসেন তাকে (ইমরান) ফোন করে মঞ্জুয়ারাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মঞ্জুয়ারার কোন সমস্যা হলে তাদেরকে দায় নিতে হবে বলে শাহাদাৎ হোসেন তাকে হুশিয়ারি দেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে মঞ্জুয়ারা ও তার স্বজনরা চলে যান। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন তার বোন কোহিনুরের সন্ধিগ্ধ হত্যাকারির কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে মামলার মোটিভ অন্য দিকে ঘোরাতে মঞ্জুয়ারাকে রক্ষা করে চলেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক মোঃ শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্রায় কয়েকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদুর রহমান শুক্রবার বিকেল ৬টার দিকে প্রথমে এ প্রতিবেদকে জানান, পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তদন্তকারি কর্মকর্তা জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

শাহাদাৎ হোসেন মামলার বাদিকে মঞ্জুয়ারাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখছেন।

(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test