E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে তীব্র ভাঙন: বিলীন ফসলি জমি, হুমকিতে ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:১৩:০৪
গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে তীব্র ভাঙন: বিলীন ফসলি জমি, হুমকিতে ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

একে আজাদ, রাজবাড়ী : গড়াই নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ভাঙনের মুখে পড়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নদীপাড়ের শত শত পরিবার। হুমকিতে রয়েছে বসতবাড়ি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙনের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো। প্রতিমুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পাকা ধান, সবজি ও পাট ক্ষেতসহ মূল্যবান ফসলি জমি। নদী পাড়ের বাসিন্দারা এখন ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "নদীর পানি বাড়লেই আমাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে কয়দিনের মধ্যে আমাদের বাড়িঘর আর থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। জমিজমা যা ছিল সব তো গেছেই, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।"

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ। ভাঙন পয়েন্টের একেবারেই কাছাকাছি চলে এসেছে একটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধর্মীয় উপাসনালয়। যেকোনো মুহূর্তে এগুলো নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিলীন হয়ে গেলে বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

তীব্র নদীভাঙন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক বাঁধ সংস্কার এবং স্থায়ী জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের মতে, এখনই কার্যকর টেকসই পদক্ষেপ না নিলে নদীপাড়ের বেশ কয়েকটি গ্রাম মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট পানীয় উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ফেলার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

(একে/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test