E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘বাক্‌স্বাধীনতা চাই, চরিত্রহনন ও ইয়েলো জার্নালিজম নিয়ন্ত্রণও জরুরি’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৬:১৭:৪৬
‘বাক্‌স্বাধীনতা চাই, চরিত্রহনন ও ইয়েলো জার্নালিজম নিয়ন্ত্রণও জরুরি’

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাক্‌স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইয়েলো জার্নালিজম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহননের অপচেষ্টাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন, ফ্রিডম অব স্পিচ, ফ্রিডম অব কনসায়েন্স, বিবেকের স্বাধীনতা ও কথা বলার স্বাধীনতা চাই। একই সঙ্গে ইয়েলো জার্নালিজম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে মানুষের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়, সেটা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন দিক থেকে আসছে।

তিনি বলেন, সাইবার আইন-২০২৬ যথেষ্ট নয়, এমন মতামতের পর আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হলেও মানুষের বাক্‌স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি উপকমিটিতে পাঠানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো পরামর্শ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা যদি এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এলাকায় অশান্তি তৈরি করছিলেন। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এ কারণে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই পদ্ধতি চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যেসব অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সংস্কার ও মেরামতের কাজে কিছুটা সময় লাগবে। এ জন্য তিনি সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রত্যাশা করেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিশোধের রাজনীতিতে না গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন,স্থানীয় বিচারক সংকট প্রশাসনিক ভাবে সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সমাধান করা হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টি ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক দেখবেন। বিগত সরকারের সময় পুলিশ বাদি হয়ে ইচ্ছামত গায়েবী মামলা করেছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এধরনের কোন মামলা হয়নি। তবে ভিকটিম যদি এ ধরণের কোন মামলা করে থাকে তাহলে পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ট জেলা দায়রা জজ মোঃ নজরুল ইসলাম। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভায় যোগ দেন তিনি।

(আরকে/এএস/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬)




পাঠকের মতামত:

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test