E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

চাটমোহরে দিনমজুরের মৃত্যুর ঘটনায় অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৮:৫৯:১৫
চাটমোহরে দিনমজুরের মৃত্যুর ঘটনায় অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

চাটমোহর প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহরে তুচ্ছ ঘটনায় মারধরের শিকার আব্দুল বারেক ওরফে বাকি নামের এক দিনমজুরের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামের অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা ঘটনার সময় কেউ এলাকায় ছিলেন না, কেউ মাঠে কাজে ছিলেন। তারপরও তাদের হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। আর মামলা বাদি তিনি এলাকাতে ছিলেন না। ঢাকায় থাকেন। সেখান থেকে এসে মামলা করেছেন বলে অভিযোগ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাটমোহর উপজেলার পাশর্^ডাঙ্গা ইউনিয়নের সজনাই গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর সাথে আলাকালে এ তথ্য জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট সজনাই গ্রামের সোবাহান আলীর ছেলে আব্দুল বারেক ওরফে বাকি তার পাঁঠা ছাগলকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করাতে নিয়ে গেলে প্রতিবেশী একই গ্রামের জাহের মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম রবি বাঁধা দেয়। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবি ও তার স্ত্রী বাকিকে মারধর করেন। বাঁশ ও কাঠের বাটাম দিয়ে বাকির মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল দশটায় মারা যান আব্দুল বারেক।

এ ঘটনায় নিহত বারেকের চাচা ওয়াহাব প্রামাণিক বাদি হয়ে চাটামোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রবি ও তার স্ত্রী রেশমা সহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। ইতিমধ্যে মামলার প্রধান দুই আসামি রবি ও তার স্ত্রী রেশমাকে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

এলাকাবাসীর অনেকে জানান, ওই মামলায় সজনাই গ্রামের কিছু সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। মারামারির ঘটনার সাথে তারা সম্পৃক্ত নন, এমনকি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে তারা উপস্থিতও ছিলেন না। মামলার আসামি করায় তারা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের পরিবার উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলায় অভিযুক্ত আসামি জাকির, মতিনের ভাই আলহাজ্ব লুৎফর রহমান হাসু বলেন, মামলার বাদি এজাহারে উল্লেখ করেছেন জাকির, মতিন, মাহমুদ, উজ্জল, আওয়াল ও মোস্তব উপস্থিত থেকে বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দ্বারা বাকিকে আঘাত করে। এটি সম্পূর্ন মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। অভিযুক্তদের মধ্যে মাহমুদ আলী প্রবাসী। তিনি ১৫ দিন আগে কুয়েত থেকে এসে রংপুরে তার আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া জাকির তার প্রতিষ্ঠানের কাজে চাটমোহরে, মতিন পাশর্^ডাঙ্গা বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং অন্যান্যরা মাঠে পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজে ছিলেন।

কামরুল হাসান বর্ষণ নামের এক বাসিন্দা বলেন, নিহত বাকির আত্মীয় দেলোয়ার ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেন এবং তিনি ঘটনার সবকিছুই জানেন। তিনি মামলায় এলাকার নিরীহ মানুষকে আসামি করার বিরোধিতা করার কারণে অন্যায়ভাবে তাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। আর মামলার বাদি ওয়াহাব প্রামাণিক ২৫ বছর আগে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি ঘটনার দিন এলাকাতে ছিলেন না। অথচ তিনি ঢাকা থেকে এসে মামলার বাদি হয়েছেন। তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এলাকার কিছু মানুষকে হয়রানী করতে মামলার আসামি করেছেন।

শফি উদ্দিন প্রামানিক বলেন, উজ্জল নামের যে ছেলেটাকে আসামি করা হয়েছে সে সেদিন আমার সাথে আমার পাট ছোলার কাজে ছিল। সেই কিছুই জানে না, অথচ তাকেও আসামি করা হয়েছে। আমরা চাই যে বা যারা দোষী তারাই শাস্তি পাক। কিন্তু কোনো নিরীহ মানুষকে যেন হয়রানী করা না হয়। ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত ও এলাকাবাসীর জবানবন্দি নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

প্রবাসী মাহমুদ আলীর স্ত্রী ছুম্মা খাতুন বলেন, আমার স্বামী দেশে আসার পর ছেলেকে বিয়ে দিয়েছি। আমরা পরিবার সহ নীলফামারী বেয়াই বাড়িতে ছিলাম। সেখানে থাকাবস্থায় শুনি এলাকায় মারামারি হয়েছে, একজন মারাও গেছে। সেটা জেনে বাড়িতে আসার চেষ্টা করছিলাম আমরা। এর মধ্যে আবার শুনি মার্ডার মামলায় আমার স্বামীকেও আসামি করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

মামলার বাদি ওয়াহাব প্রামাণিক বলেন, ওরা প্রতাপশালী লোক। ওরা বহুত লোককে মারছে। আমরাতো কাউকে মারতে পারিনি, মাইর খায়ে আসছি। মতিন, জাকির ওরা মারার হুকুম দিছে। মারার হুকুম দিলে কি ওরা আসামি হয় না? মারার হুকুম দিছে তার প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাদের বলছে তারাই আমাদের বলছে। হত্যার সাথে তারা জড়িত বিধায় মামলার আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে আপনি উপস্থিত ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি ওইদিন এলাকায় ছিলেন না বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি মোহা: অলিউর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে মামলার প্রধান দুই আসামি রবি ও তার স্ত্রী রেশমাকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা তাদের আদালতে সোপর্দ করেছি। আর মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা মিলবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু পুলিশ নিরীহ বা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন মানুষদের হয়রানী করবে না।

(এসএইচ/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test