E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কলি হত্যা ঘিরে উত্তাল পাবনা, দ্বিতীয় দিনেও আসামির বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:১২:৩৬
কলি হত্যা ঘিরে উত্তাল পাবনা, দ্বিতীয় দিনেও আসামির বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনায় শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে দ্বিতীয় দিনের মতো ভাঙচুর চালাচ্ছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ফের ভাঙচুর শুরু হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টায়ও ভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চলছিল।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙচুরকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, তাদের বাড়ি ওই এলাকায় নয়। তারপরও শিশু হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ জানাতে তারা সেখানে এসেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন, ভবিষ্যতে ওই স্থানে ‘আবু জেহেলের বাড়ির’ মতো টয়লেট নির্মাণ করা হবে, যাতে মানুষ এসে থুথু ফেলতে পারে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, “দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লোকজন ওই বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন। শুধু স্থানীয়রা নন, দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন এসে এতে অংশ নিচ্ছেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।

যেভাবে উদ্ধার হয় কলির মরদেহ

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন।

গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

(এসকেকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test