E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

টঙ্গীতে নুরুল ইসলাম হত্যা

পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ, আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি এলাকাবাসীর 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৭:৪১:৪৭
পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ, আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি এলাকাবাসীর 

মো. জসিম উদ্দিন জুয়েল, টঙ্গী : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৪৪নং ওয়ার্ডের গোপালপুর এলাকায় নুরুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ, আসামিদের গ্রেফতার ও তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে নুরুল ইসলামকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে হত্যা করে তার মরদেহ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ির সামনে রেখে যায়। নিহত নুরুল ইসলাম মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন মোছা. নুরজাহান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এতে নিহতের দুই মামা, বোন এবং তার দুই কন্যাসন্তান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নিহতের মেয়েরা বাবার হত্যার বিচার দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রতিবাদ সভায় নিহতের মামা শানু ও শাহাদাত অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে। তাদের দাবি, পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার পরিবর্তে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার প্রকৃত আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন চিন্হিত সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তাদের হুমকি দিয়েছিলো। প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মামলার কয়েকজন আসামি এখনও এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। এতে নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ সময় বক্তারা বলেন, নিহত নুরুল ইসলামের দুই মেয়ে চাঁদনি (১৬) ও তন্নি (১১) এর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের জীবনযাপন এখন ঝুঁকির মধ্যে। সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী বাবাকে হারিয়ে আজ তারা দিশেহারা। জানা যায়, নিহত নুরুল ইসলাম বিল্ডিংয়ে রঙের কাজ করতেন।

এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, মামলার কয়েকজন আসামির কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের মধ্যে বাবু খান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন বড় নেতা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুজ্জামান কিরণের দূরসম্পর্কের ভাতিজা বলেও সভায় দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে বলেন, নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে ইতিমধ্যেই আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, মামলার সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

(জেজে/এসপি/সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test