E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৮:৩৮:১১
ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উত্তম সরকার উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ জুলাই থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্রেডিট ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে।

উত্তম সরকার ওই ক্রেডিট ইউনিয়নে অর্থ আদায়করি পদে চাকরি করতেন। তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার বান্দল গ্রামের নিমাই সরকারের ছেলে।

কোটালীপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মে মাসে উত্তম সরকারকে ওই ক্রেডিট ইউনিয়নে অর্থ আদায়কারি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষক কর্মচারীর জামানত ও ঋণের কিস্তির টাকা ক্রেডিট ইউনিয়নের ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করতে থাকে।

গত জুলাই মাসে ক্রেডিট ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উত্তম সরকারের কাছে টাকার হিসাব চাওয়া হলে তিনি গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে ক্রেডিট ইউনিয়ন পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা ফান্ডে রক্ষিত অর্থ ও ক্যাশ বই মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার গড়মিল পান। এ ১ কোটি টাকা নিয়ে উত্তম সরকার উধাও হয়েছে বলে ক্রেডিট ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পিঞ্জুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীহাররঞ্জন বারুরী বলেন, আমি ২৪ হাজার টাকা ও আমার স্ত্রীর নামে ৫৫ হাজার টাকা ক্রেডিট ইউনিয়নে জামানত রেখেছিলাম। কিন্তু এই টাকা উত্তম সরকার ক্যাশ বইতে পোস্টিং না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে।

কোটালীপাড়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অসীম বিশ্বাস বলেন, আমার ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা ক্যাশ বইতে জমা না দিয়ে উত্তম আমার টাকা মেরে দিয়েছে। এই টাকা আমার খুবই কষ্টের টাকা। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।

ওয়েস্ট কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক আবু জাফর হাওলাদার বলেন,আমার ১ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা উত্তম আত্মসাৎ করেছে।অল্প অল্প করে সঞ্চয়ের মধ্য দিয়ে আমি ক্রেডিট ইউনিয়নে এই টাকা জমা রেখেছিলাম। কিন্তু উত্তম এ টাকা ক্যাশ বইতে জমা করেনি। শুধু আমার পাস বইতে উঠিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা উত্তমকে খুঁজে পাচ্ছি না। তাকে খুঁজে না পেলে আমি এই কষ্টের টাকাও পাবো না।আমরা চাই উত্তম ফিরে এসে আমাদের হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দিয়ে যাক।

এ বিষয়ে জানার জন্য উত্তমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।তবে তিনি গোপন স্থান থেকে মুঠোফোনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমি দৈনিক ঋণের কিস্তি বা জামানতের যে টাকা আদায় করতাম তা ম্যানেজার ইদ্রিসুর রহমানের কাছে জমা দিতাম। এখানে অর্থ আত্মসাতের আমার কোন সুযোগ নেই।

ইদ্রিসুর রহমান বলেন, উত্তম সরকার যে কথাটি বলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।দৈনিক যে অর্থ আদায় হতো তা ক্যাশ বইতে লিখে উত্তমের ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা ছিল।কিন্তু উত্তম সব সদস্যের বেলায় এই কাজটি করেনি। আমাদের ক্রেডিট ইউনিয়নে ৭৯৫ জন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে প্রায় শতাধিক সদস্যের টাকা ও মেরে দিয়েছে। এ ছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে আমি ম্যানেজারের পর থেকে পদত্যাগ করেছি।

কোটালীপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি সরওয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, আমরা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে যতটুকু সত্যতা পেয়েছি তাতে উত্তম সরকারই অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে প্রমাণিত হয়। তা ছাড়া সে যদি টাকা আত্মসাৎ না করেই থাকেন তাহলে সে আত্মগোপনে রয়েছেন কেন? এ বিষয় নিয়ে আমরা উত্তমের বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সামাজিক ভাবে বিষয়টি ফায়সালা করবেন বলে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্তমের পরিবারের পক্ষ থেকে ফায়সালা না দিলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিবো।

(টিবি/এসপি/সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test