E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

টুঙ্গিপাড়ায় আগুনে ছয়টি গরুসহ পুড়েছে গোয়ালঘর 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:১৪:৩৪
টুঙ্গিপাড়ায় আগুনে ছয়টি গরুসহ পুড়েছে গোয়ালঘর 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : অভাবের সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ২ বছর ধরে লালন-পালন করে আসছিলেন ৫টি গাভী। সেই গরুগুলোই বিদেশ ফেরত উৎসব বাইনের পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু মধ্যরাতের ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তার সেই স্বপ্ন। আগুনে ৫টি গাভী ১ টি বাছুর ও গোয়ালঘর পুড়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের বড় ডুমরিয়া গ্রামের কৃষক উৎসব বাইনের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

উৎসব বাইনের বড় ভাই অনিমেষ বাইন জানান, পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ গোয়ালঘরে থাকা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে গোয়ালঘরে থাকা ৫টি গাভী আগুনে পুড়ে মারা যায় । গোয়ালঘরটি পুড়ে যায়।

এ ঘটনায় জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক উৎসব বাইন। চোখের সামনে নিজের লালন-পালন করা গরুগুলো পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবারটির মাঝে নেমে এসেছে শোক ও হতাশা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উৎসব বাইন বলেন, আমি পনেরো বছর সিঙ্গাপুর ছিলাম। বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছি। কেমন টাকা আয় করতে পারিনি। দুই বছর আগে আমি দেশে ফিরে আসি। বিদেশ থেকে আনা টাকা দিয়ে গাভীর খামার শুরু করি। একটি গাভী বাচ্চা দিয়েছে। এতদিন ৮ থেকে ১০ লিটার দুধ পেতাম। এছাড়া আরো দুইটি গাভী এক দেড় মাসের ব্যবধানে বাচ্চা দেওয়ার উপযুক্ত ছিল। জীবনের জমানো অর্থ ও শ্রম দিয়ে খামার গড়ে তুলেছিলাম। এই গরুগুলোই ছিল আমার পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কিন্তু রাতের আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি একেবারেই অসহায় ও নিরুপায় হয়ে পড়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “গরুগুলোকে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করেছি। চোখের সামনে তাদের পুড়ে যেতে দেখেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে, তা জানি না। স্ত্রী, ২ ছেলেকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উৎসব বাইন এই কঠিন সময়ে তার ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ডুমরিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য নিরাপদ বসু বলেন।

ডুমরিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নিজাম শেখ বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উৎসবের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সব হারিয়ে বিদেশ ফেরত উৎসব নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আমরা তাকে এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছি।

উপজেলা প্রশাসনকে আমি বিষয়টি অবহিত করেছি। সেখান থেকে জরুরী ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও আমরা যথাসম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করব।

(টিবি/এসপি/সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test