E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গোপালগঞ্জে শৈলদাহ নদীতে বিলীন হচ্ছে সড়ক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৫:২৪:৫০
গোপালগঞ্জে শৈলদাহ নদীতে বিলীন হচ্ছে সড়ক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈলদাহ নদীর ৩ টি পয়েন্টের ১ হাজার ২শ’ মিটার এলাকাজুড়ে  নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।   এতে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়ক বিলীন হয়ে  যাচ্ছে। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ১০ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ ।

বালুর বস্তা ফেলে পানি উন্নয়নবোর্ড অস্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়নবোর্ডের তথ্যমতে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত শৈলদাহ নদীর আয়তন ৮ কিলোমিটর । গড় প্রস্ত ৩৪০ মিটার। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ন এ নদীর গতিপথ আকা-বাঁকা ও ভাঙন প্রবণ হিসেবে পরিচিত বলে পানি উন্নয়নবোর্ড উল্রেখ করেছে । চলতি বর্ষা মৌসুমে এ নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করেছে। আছড়ে পড়ছে ডুমরিয়া ইউনিয়নের সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া পয়েন্টে । নদী ভাঙনে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের ওই স্থানগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে । চলাচলের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা ৯/১০ কিলো মিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ৫০ বসত বাড়ি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের ট্যাংক, ফসলী জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ।

সড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো: শামীম মোল্লা (৬০) বলেন, নদী ভাঙনে আমার বাড়িঘর ও জমি বিলীন হয়েছে। এখন রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া গ্রামের ৫০ বসতবাড়ি, ফসলী জমি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের পানির ট্যাংক, স্কুল সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পানি উন্নয়নবোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। এতে হবে না, স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভ্যান চালক আনন্দ কীর্ত্তনীয়া (৩৫) ও নূর মোহাম্মদ শেখ (৪৫) বলেন, রাস্তা কোথাও ভেঙে গেছে, কোথাও দেবে গেছে। এখানে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হয়। কোন কোন জায়গার অবস্থা এত খারাপ যে, যাত্রী নামিয়ে দিতে হয়। টায়ার লিক হয়। চেইন ছিড়ে যায়। বিয়ারিং ও মোটর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১০ কিলোমিটার ঘুরে ডুমরিয়া-পাকুরতিয়া গন্তব্যে পৌছাতে হয়। নদী ভাঙন প্রতিরোধ করে সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
সড়াবাড়ী গ্রামের কলেজ ছাত্র হৃদয় শেখ (২১) বলেন, নদী ভাঙন আমাদের এলাকার বসতবাড়ি, ফসলী জমি, সড়ক গিলে খাচ্ছে। এখানে এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সহ বড় বড় গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। এতে রোগী পরিবহন সহ জরুরী সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এই মূহুতে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা না হলে সড়ক নদীগর্ভে চলে যাবে। যাতায়াত ও পণ্যপরিবহন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই আমি সড়ক রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

চিথলিয়া গ্রামের গৃহবধূ বাসন্তী মিস্ত্রী বলেন, ভাঙনে আমাদের বসতঘর অনেক আগেই চলে গেছে। এখন জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। সরকার বালির বস্তা ফেলছে। কিন্তু ভাঙন থামছে না। সম্পত্তি রক্ষায় আমরা ভাঙন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।

গোপালগঞ্জ পনিউন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, শৈলদাহ নদীর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া্ ইউনিয়নের ৩টি পয়েণ্টে ১ হাজার ২শ’ মিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ডাম্পিং করে অস্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি। সাউথ ইস্ট প্রকল্পের আওতায় শৈলদহ নদী ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে ।

(টিবি/এএস/সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test