E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

জ্বালানির প্রথম চালান আসবে ২ অক্টোবর

রূপপুর পারমাণবিকে সেফটি ভালভের সমস্যার সমাধান

২০২৬ অক্টোবর ০১ ১৭:৩১:৪৮
রূপপুর পারমাণবিকে সেফটি ভালভের সমস্যার সমাধান

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ১৬ মেগাপাসকেল (MPa) উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (PORV/POSV)-এর পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান গভীর রাতে পিআরওভি ভাল্বের সমস্যা সমাধানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আগের রাত থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ (MCR) এবং জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (ECR)—উভয় স্থান থেকেই পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ভালভগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভ (MSV)-এর কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও যাচাই করা হয়। এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অনুমোদিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, PORV পরীক্ষার সফল সমাপ্তিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থাটি সরাসরি সম্পৃক্ত।

কমিশনিং কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অনুমোদন, ব্রিফিং এবং নিরাপত্তা শর্ত নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক রাখতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলে ড. জায়েদুল দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে পরীক্ষা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগোচ্ছে এবং প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

এর আগে সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়ে।

রাশিয়ার পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এএসই বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ চালুর লক্ষ্যে ইউনিট-২ থেকে একটি পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ (PORV) ইউনিট-১-এ স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুরের সেফটি ভালভে ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে কবে ত্রুটি মেরামত হবে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।

এসময় প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, বিকল্প ভালভ স্থাপন সম্ভব না হলে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পটির বাণিজ্যিকভাবে চালুর সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে।

রিঅ্যাক্টরের প্রেসারাইজারে থাকা PORV নিয়ে বারবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়। প্রাইমারি কুলিং সিস্টেমে অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এই ভালভটি রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উপাদান।

দেশে চলমান বৈদ্যুতিক পরিস্থিতিতে রূপুপুরের ভালবের বিষয়টি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচরিত হলে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বাল্বের সমস্যা সমাধানের জন্য রাশিয়া সরকারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম সমস্যা সমাধানের জন্য রূপপুরে আসেন। তাদের এবং বাংলাদেশীদের নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ভালবের সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে এমডি জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম আজ বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ঢাকা আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে আসছে। মোট সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ডিসেম্বরের মধ্যে এই জ্বালানি আনার কথা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক নির্মাণকারি রাশিয়ার রোসাটমের মিডিয়া উইং এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২য় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়ে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, জ্বালানিগুলো একাধিক ফ্লাইটের মাধ্যমে পরিবহন করা হবে।

এনপিসিবিএলের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে আসে। এই হিসেবে পরদিন শুক্রবার সকালে বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এ হিসেবে ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রথম চালান পৌঁছানোর পর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই ইউরেনিয়াম ঢাকা থেকে সড়ক পথে ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রকল্প এলাকায় দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালান পৌঁছাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রাক্কলনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

রাশিয়ার সঙ্গে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য কম-কার্বন বিদ্যুতের বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত। তবে সেফটি ভালভের সর্বশেষ এই জটিলতায় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

(এসকেকে/এসপি/অক্টোবর ০১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০১ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test