E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গোপালগঞ্জ  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলটি অস্তিত্ব সংকটে 

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৫:০৮:৩৯
গোপালগঞ্জ  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলটি অস্তিত্ব সংকটে 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসের কোয়ার্টারে বসবাস করেন। তাদের সন্তানদের দূরের স্কুলে না পাঠিয়ে, ক্যাম্পাসের মধ্যেই মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় । বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চমৎকার ও নিরাপদ পরিবেশ শিশুদের মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে সাহায্য করে। ক্যাম্পাসের বিশাল জায়গা, খেলার মাঠ এবং অন্যান্য অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় বা ভেতরের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা সহজ হয়। 

এমন বিবেচনায় ২০১৭ সালে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লাইব্রেরীর পাশে মনোরম পরিবেশ একটি স্কুল যাত্রা শুরু করে । নাম দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তখন ১৬ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রথম বছর এখানে ৬৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। খোলা হয়নি কলেজ শাখা । ২০১৯ সালের পর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায় । ২০২০ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমোদন পায়। পরে স্কুলটিকে ভিসির বাসভবনের পাশে স্থানান্তর করা হয় । তারপর থেকেই বিদ্যালয়টির সৌন্দয্য হারাতে থাকে। শ্রেণিকক্ষ সংকট, নিরাপদ খাবার পানির অভাব, স্যানিটেশন ও পরিবহন সমস্যায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমতে থাকে । বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণিতে মাত্র ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুকাইয়া খানম বলে, আমি এখানে প্লে থেকে ৫ শ্রেণিতে পড়ছি। আমাদের বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠানো ভাল নয়। ওয়াশ রুম ও নিরাপদ খাবার পানির সমস্যা রয়েছে। ভিসি স্যার আমাদের এ সমস্যা সমাধান করবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদুজ্জামান আহসাফ বলে, ওষাশ রুমের সাথে ঝোপ-জঙ্গল। সেখানে সাপ থাকে । ভয় লাগে। এছাড়া বৃষ্টি হলে ক্লাস রুমের চাল দিয়ে পানি পড়ে।

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়ান বলে, খেলার মাঠ নেই। রোদে প্রচন্ড গরমের মধ্যে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যাই । খুব কষ্ট করে ক্লাস করি। স্কুলে খেলার মাঠ নেই। শ্রেণি কক্ষের অবস্থা খুব খারাপ। তাই স্কুলের খেলার মাঠ ও নতুন ভবন চাই।

প্রাক প্রাথমিকের তাইবুল্লাহ রোহান ও প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহর মা তাসলিমা বেগম বলেন, এখানে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করেন। তারা শিশুদের সুন্দরভাবে টেক কেয়ার করেন। তাদের কারণেই ২ ছেলেকে এখান থেকে নিয়ে অন্য স্কুলে দেইনি। তারা এখানেই পড়ছে ।

৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহিমের মা সায়লা জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চমৎকার ও নিরাপদ পরিবেশ শিশুদের মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে সাহায্য করে। এ কারণে এখানে সন্তানকে ভর্তি করিয়েছে। কিন্তু এখানে সুযোগ সুবিধিার তুলনায় সমস্যা অনেক বেশি । এক কক্ষে একই সাথে ২টি ক্লাস নেওয়া হয়। ক্লাসে পর্যাপ্ত ফ্যান নেই। আর অন্যান্য সমস্যাতো রয়েছেই।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো: নাজমুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমি এ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছি। এখন গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই বিভাগে পড়ছি। স্যার-ম্যামরা বিদ্যালয়টিকে নিজের সন্তানেরমতো করে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এটি খুব কষ্টের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটির সমাধান দেবেন বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ঈমান আলী বলেন, আমি বর্তমানে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে পড়াশোনা করছি। আমাদের সময় বিদ্যালয়ের অবস্থা খুব ভাল ছিল। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বিদ্যালয়টি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এটি সমাধান করে বিদ্যালয়টিকে মডেল বিদ্যালয়ে পরিনত করতে হবে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিম আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালে ভিসি চলে যওয়ার পর আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে আছে। স্কুলটি লাইব্রেরির পাশ থেকে স্থানান্তর করে ভিসি স্যারের বাড়ির পাশে আনা হয়। তারপর থেকে সংকট বাড়তে থাকে। এখন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। ভিসি স্যার স্কুলের সমস্যা দূর করলে এথানে শিক্ষারমান ও শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাবে। এটি জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সহকারী শিক্ষক আফরোজা খানম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে, বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানের জন্য ভিসি স্যারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি ।

সহকারী শিক্ষক আলেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘ ৭ বছর বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ও আমাদের পকেটের টাকা দিয়ে স্কুল চালিয়ে যাচ্ছি। এতে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষক খুলনা, কোটালীপাড়া সহ বিভিন্ন জেলা,উপজেলা থেকে নিয়মিত স্কুল করেন। তাদের কষ্ট আরো বেশি। তাই সদ্য যোগদান করা ভিসি স্যার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন বলে দাবি জানাচ্ছি।

ভিসি প্রফেসর ড. মো: সোহেল হাসান বলেন, বিদ্যালয়টির কোন অনুমোদন নেই। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামেও নেই। এখানে বিদ্যালয় হয়েছে। শিক্ষক, কর্মচারী-শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাই আমি কমিটি করে এটি অর্গানোগ্রামের মধ্যে অন্তভূক্ত করব। তারপর ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেব। স্কুলের ব্যাপারে যা যা করার, তা আমি করব। শিশুরা জাতির জাতির ভবিষ্যত। তাদের শিক্ষা প্রসার, মেধা মনন ও কল্যাণে আমি বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান করব।

(টিবি/এএস/অক্টোবর ০৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৩ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test